
ইফার মউশিক প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যামূলক জবাব নিয়ে দৈনিক ভোরের আওয়াজ-এর মুখোমুখি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মউশিক প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) এস এম তরিকুল ইসলাম
সাক্ষাৎকার গ্রহণে: মোহাম্মদ শাহাদাত (প্রধান সম্পাদক, দৈনিক ভোরের আওয়াজ)
সাক্ষাৎকারদাতা: এস এম তরিকুল ইসলাম (যুগ্মসচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও প্রকল্প পরিচালক, ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ভূমিকা:
গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও মিডিয়া পাড়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদটিকে চরম পক্ষপাতদুষ্ট, তথ্যবিভ্রাটপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুল ইসলাম। প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা, সিভিল সার্ভিস নীতিমালা এবং প্রেস কাউন্সিলের আইনি পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তাঁর সাথে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিলেন দৈনিক ভোরের আওয়াজ-এর প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত। আলোচনার মূল অংশ পাঠকের জন্য নিচে উপস্থাপন করা হলো:
মোহাম্মদ শাহাদাত: ওই দৈনিক পত্রিকার সংবাদটিতে আপনার পদায়নকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। একজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
এস এম তরিকুল ইসলাম: দেখুন শাহাদাত ভাই, এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অপপ্রচারের শামিল। আমি ২০তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন পেশাদার সরকারি কর্মকর্তা। ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ অনুযায়ী রাষ্ট্রের যেকোনো পদায়নে অর্পিত দায়িত্ব পেশাদারিত্ব ও সততার সাথে পালন করা আমার আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা। একজন সিভিল সার্ভেন্টের নিয়মানুগ স্বাভাবিক বদলি ও পদায়নকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া বা রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া পেশাদারি প্রশাসনের মূল কাঠামোগত নীতি ও নিরপেক্ষতার চরম অবমাননা।
মোহাম্মদ শাহাদাত: প্রতিবেদনে আপনার বিরুদ্ধে কর্মী হেনস্তা, বরখাস্ত কিংবা অনৈতিক সুবিধার কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যামূলক জবাব কী?
এস এম তরিকুল ইসলাম: এসব অভিযোগ শতভাগ কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিংবা এই হাজার কোটি টাকার বৃহৎ প্রকল্পে নিয়োগ, বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় হয় না। সব সিদ্ধান্ত নির্ধারিত প্রশাসনিক বোর্ড ও প্রচলিত আইন-কানুন অনুসরণ করেই নেওয়া হয়। যেমন— খুলনার অপ্রীতিকর ঘটনাটি জানার পরপরই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কাজ বিঘ্নহীন করতে প্রচলিত বিধি মেনে সংশ্লিষ্ট ফিল্ড অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। একটি স্বাভাবিক ও তদন্তাধীন প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে কর্মী হেনস্তার গল্প সাজানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও অসাধু সাংবাদিকতা।
মোহাম্মদ শাহাদাত: সংবাদটি পরিবেশনের ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আচরণ-সংহতি’ কতটুকু মানা হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
এস এম তরিকুল ইসলাম: বিন্দুমাত্র মানা হয়নি। গণমাধ্যমের মৌলিক নীতি হলো সততা, নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা। কোনো নিরপেক্ষ ও সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কেবল মনগড়া অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর সংবাদ প্রকাশ সংবাদপত্র নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। ভিত্তিহীন তথ্যের ওপর নির্ভর করে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার সুদীর্ঘ পেশাগত সুনাম ও সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করা প্রচলিত আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠিনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
মোহাম্মদ শাহাদাত: সংবাদটির বিরুদ্ধে আপনি ঠিক কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছেন?
এস এম তরিকুল ইসলাম: আমরা সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদককে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই যে, এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপিটি প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে সমগুরুত্বে প্রকাশ করতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায়, নিজের পেশাগত ভাবমূর্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার্থে আমি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪৯৯ (মানহানি) ও ধারা ৫০০ সহ দেওয়ানি আইন এবং ‘দ্য প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৭৪’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হব।
মোহাম্মদ শাহাদাত: আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ আপনার অবস্থান ও বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা স্পষ্ট করার জন্য।
এস এম তরিকুল ইসলাম: আপনাকে এবং ‘দৈনিক ভোরের আওয়াজ’ পরিবারকেও ধন্যবাদ। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মধ্য দিয়েই সত্য উন্মোচিত হোক।