
আউটসোর্সিং কর্মীদের জাতীয় পে-স্কেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্থায়ী নীতিমালার দাবি
নিযেস্ব প্রতিনিধি:
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আউটসোর্সিং ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের জন্য গ্রেডভিত্তিক মূল বেতন, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতার সুনির্দিষ্ট বিধান রেখে স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ’।
আজ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বুধবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর হাতিরঝিলস্থ সংগঠনের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিষদটির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি মো: মাহবুবুর রহমান আনিস এবং সাধারণ সম্পাদক মো: নূরুল হক নূর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিটি সরকারি দপ্তরেই বড় একটি অংশ আউটসোর্সিং ও দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োজিত রয়েছে। অথচ একই দপ্তরে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীদের মতো সমপরিমাণ ও ক্ষেত্রবিশেষে অধিকতর শ্রম দেওয়া সত্ত্বেও তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বর্তমান বাজারদরের সাথে তাদের সাকুল্যে বেতন সঙ্গতিপূর্ণ নয়, যার ফলে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
এই চরম বৈষম্য দূরীকরণ এবং জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫-এর সুযোগ-সুবিধার সাথে সামঞ্জস্য রেখে “আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা”-তে নিয়োগ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ও বিধিমালাসমূহ সংযুক্ত করে নতুন ও যুগোপযোগী গেজেট প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছে পরিষদটি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৫ দফা প্রধান দাবি:
১. গ্রেডভিত্তিক মূল বেতন ও পদের বিন্যাস: আউটসোর্সিংয়ের সকল পদকে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের ধরন অনুযায়ী জাতীয় বেতনস্কেলের (গ্রেড-১১ হতে গ্রেড-২০) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কর্মচারীদের বেতন এককালীন বা সাকুল্যে না করে সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন (Basic Pay) নির্ধারণ করতে হবে।
২. বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা নিশ্চিতকরণ: নিয়মিত সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য মাসিক পে-স্লিপে মূল বেতনের পাশাপাশি আলাদাভাবে বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা (নূ্যনতম ১,২০০/- টাকা) নিশ্চিত ও বাধ্যবাধকতা করতে হবে।
৩. পূর্ণাঙ্গ উৎসব ও বৈশাখী ভাতা: আংশিক বা ৫০% উৎসব প্রণোদনার পরিবর্তে নিয়মিত কর্মচারীদের মতো বছরে ২টি পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা (মূল বেতনের ১০০% হারে) এবং ২০% হারে বাংলা নববর্ষ বা বৈশাখী ভাতার আইনি বাধ্যবাধকতা নীতিমালায় যুক্ত করতে হবে।
৪. শ্রম আইন ও সাংবিধানিক অধিকার: ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদ (সুযোগের সমতা)-এর স্পষ্ট রেফারেন্স যুক্ত করতে হবে, যাতে ‘সমকাজে সমমজুরি’ ও চাকরির ন্যূনতম নিরাপত্তার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়।
৫. ইনক্রিমেন্ট ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা: নিয়মিত কর্মচারীদের মতো আউটসোর্সিং কর্মচারীদের জন্যও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (Increment) এবং ভবিষ্যৎ তহবিলের (Provident Fund) ব্যবস্থা নীতিমালার আর্থিক অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সংগঠনটির নেতারা জানান, দেশের লাখ লাখ আউটসোর্সিং কর্মচারীর মানবিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে এ সুবিধাগুলো সংবলিত পূর্ণাঙ্গ ও যুগোপযোগী আউটসোর্সিং নীতিমালা ও গেজেট জারি করা জরুরি।