মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ এএসআই জৈন্তাপুর মডেল থানার জিয়াউর রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান বর্তমান সরকার কোনভাবেই মব সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেবেনা : হুইপ জি কে গউছ সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি মঙ্গলবার ব্যাপক প্রস্তুতি, কঠোর নিরাপত্তা ঘোড়াঘাটে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে   দীঘিনালায় একই দিনে ছয় কর্মকর্তার বদলি ও অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা রাজশাহীতে কমছে পদ্মা নদীর পানি, তীর ভাঙনের শঙ্কা! মেঘনায় ১৮ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ! কালীগঞ্জে এনসিপি নেতার বিররুদ্ধে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলা! সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাবে কালীগঞ্জের চিত্র-এমপি-ফজলূল হক মিলন

বিদেশি ফলে দিনাজপুরের যুবক কামাল

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৮ অগাস্ট, ২০২৬



বিদেশি ফলে দিনাজপুরের যুবক কামাল

আব্দুস সালাম, ​দিনাজপুর 

আবুধাবিতে চাকরি করার সময় প্রথম নজর কাড়ে একটি অজানা ফল ‘কাঠলিচু’। সেই প্রবাস জীবনের স্বপ্নকে দেশে ফিরে বাস্তব রূপ দিয়ে এখন এলাকায় রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন যুবক মনিরুজ্জামান রিফাত (৩৫)। দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার জোতকৃষ্টপুর গ্রামে গড়ে তোলা তাঁর ফলের বাগান দেখে এখন দিনবদল ও সফলতার স্বপ্ন দেখছেন জেলার শত শত বেকার তরুণ ও উদ্যোক্তা।

​চলতি মৌসুমে নিজের পোল্ট্রি খামারের চারপাশের প্রায় দুই একর জমিতে শতাধিক গাছ থেকে সাড়ে ১০ লাখ টাকার কাঠলিচু বিক্রি করেছেন এই সফল উদ্যোক্তা। পাশাপাশি একই বাগানে উৎপাদিত উন্নত জাতের লটকন বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে। প্রথমবার নিজের বাগানে উৎপাদিত এক হাজার লটকন চারা বিক্রি করতেও সম্পূর্ণ প্রস্তুত তিনি, যা থেকে আরও লাখ টাকার বেশি আয়ের আশা করছেন।

চিরিরবন্দরের ভিয়াইল ইউনিয়নের জোতকৃষ্টপুর গ্রামের সন্তান রিফাত আগে ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এক প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সেখানে বাজারে ফলের ঝুড়িতে থাকা কাঠলিচু দেখে এবং খেয়ে এর প্রতি আগ্রহ জন্মায় তাঁর।

​দেশে ফিরে ২০২২ সালের জুন মাসে চুয়াডাঙ্গা থেকে মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকায় ৫০টি উন্নত জাতের কাঠলিচু চারা কিনে এনে রোপণ করেন। পরবর্তীতে আরও ৭৫টি চারা সংগ্রহ করে নিজের ‘মেসার্স প্রবাস বন্ধু পোল্ট্রি অ্যান্ড চকিস’ খামারের চারপাশে রোপণ করেন। মাত্র ৪ থেকে ৫ বছরের সঠিক যত্নে আজ প্রতিটি গাছ ফলভারে নুয়ে পড়েছে।

রিফাতের বাগানে ভিয়েতনামের বিখ্যাত ‘পিংপং’ এবং ‘পিংকন’ এই দুই জাতের কাঠলিচুর ফলন হয়েছে। রোগবালাই কম হওয়ায় এবং কীটনাশক প্রায় না লাগায় নিরাপদে উৎপাদিত এই ফলের চাহিদা আকাশচুম্বী। ঢাকার পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে এই কাঠলিচু ও লটকন। বর্তমানে লটকন প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

​রিফাত জানান, গত বছর প্রায় ৫ লাখ টাকার কাঠলিচু বিক্রি করেছিলাম। এবার ফলন এত ভালো হয়েছে যে ইতিমধ্যেই সাড়ে ১০ লাখ টাকা আয় হয়েছে। প্রতি একশ চারার দাম আকারভেদে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। চাহিদার তুলনায় আমি চারা দিতে পারছি না।

সম্প্রতি রিফাতের দৃষ্টিনন্দন ও সফল এই বাগান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এবং হর্টিকালচার বিভাগের উপপরিচালক মো. এজামুল হক।

​উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা জানান, কাঠলিচু, লিচু ও রাম্বুটান একই জাতের সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। এটি লাভজনক এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। নতুন উদ্যোক্তারা যাতে রিফাতের মতো সফল হতে পারেন, সেজন্য কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews