
অনৈতিক সম্পকের জেরে নির্মম হত্যাকাণ্ড, সীমান্ত এলাকা থেকে আসামি গ্রেফতার করেছে পিবিআই
আর কে রুবেল, কুড়িগ্রাম :
সাভারে অনৈতিক সম্পকের জেরে ধর্ষণের পর হত্যা করে ভারতে পালানোর পথে ঘটনায় জড়িত আসামী মোঃ মাসুম ইসলামকে। গ্রেফতারসহ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা। গত ১৪/০৭/২০২৬ ইং তারিখ কুড়িগ্রাম জেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গত ২ জুলাই ২০২৬ খ্রি. তারিখ দুপুর আনুমানিক ১৩.৩০ ঘটিকা হতে ১৯.১৫ ঘটিকার মধ্যে যেকোন সময় সাভার থানার বড়দেশী এলাকায় ভাড়া বাসায় ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার শিকার হন ভাড়াটিয়া মোছা, শারমিন আক্তার (৩৯) শয়নকক্ষ হতে রক্তাক্ত অবস্থায় ডিসিস্ট মোয়া, শারমিন আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় যে, অনৈতিক সম্পক বিরোধের জেরে অভিযুক্ত তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. শাওকাত হোসেন বাদী হয়ে আজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানার মামলা নং-১৮, তারিখঃ ০৩/০৭/২০২৬ খ্রি., ধারাঃ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২) ধারায় মামলা দায়ের করেন। গত ৮ জুলাই ২০২৬ খ্রি. তারিখ পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. খালেদ মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তদন্ত পরিচালনা করছেন।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল এর সার্বিক দিক-নির্দেশনায় পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম,এন, মোর্শেদ, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে। গত ১৪/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতে পালানোর পথে ঘটনায় জড়িত আসামী মোঃ মাসুম ইসলাম, পিতা-মোঃ ইউনুস মণ্ডল, সাং-ফুলখা মণ্ডলপাড়া, থানা-রাজারহাট, জেলা-কুড়িগ্রাম (বর্তমানে কাতলাপুর জনৈক আল-আমিন এর বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা-সাভার, জেলা-ঢাকা) কে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী মাসুম ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে এবং বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ এর ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পিবিআই এর তদন্তে, ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত আলামত, এবং আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ মাসুম ইসলাম প্রজাপতি পরিবহনের লাইনম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করত। পাশাপাশি সাভারের কাতলাপুর এলাকয়ে তাঁর পিতার চায়ের দোকানেও কাজ করত ওই চায়ের দোকানের পেছনেই ভিকটিম মোছাঃ শারমিন আক্তার ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সেখান থেকেই তাদেয় মধ্যে পরিচয় হয় এবং একপর্যায়ে উভয়ে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ভিকটিম সাভারের বড়দেশী এলাকায় নতুন বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করলে আসামি নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করত। ঘটনার আগের রাতে অনৈতিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মোবাইল ফোনে তাদের মধ্যে তীত্র বাকবিতণ্ডা হয়। ঘটনার দিন আসামি ভিকটিমের বাসায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে পুনরায় মনোমালিন্যের একপর্যায়ে ভিকটিমের ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে ঘটনাস্থল। থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে শারীরিক সম্পর্কের আলামত, একটি সিগারেটের খোসাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে এ বিষয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব এম,এন, মোর্শেদ, পিপিএম বলেন, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির পরপরই পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে এবং স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি অধিগ্রহণ করে। নিরলস তদন্তের মাধ্যমে আমরা মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।”এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘পিবিআই বিশ্বাস করে-বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত, পেশাদার দক্ষতা ও নিরলস প্রচেষ্টার কাছে অপরাধী যত দূরেই পালানোর চেষ্টা করুক না কেন, সত্য উদ্ঘাটিত হবেই, অপরাধী আইনের আওতায় আসবেই এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবেই।” ঘটনার। সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।