রহিমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনে সামিদুলের ‘বাধা’
সিরাজগঞ্জ :
রহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা কমিটিতে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা ও আইন লঙ্ঘন করে অনৈতিক পন্থায় সদস্য হতে না পারায় কমিটি গঠনে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে মো. সামিদুল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের অন্তর্গত রহিমপুর গ্রামে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালনা কমিটি গঠনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের আহ্বানে সভাপতি পদে নিজ গ্রামের যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে সভাপতি নিযুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার উদ্যেগ গ্রহণ করেন গ্রামবাসী।
পরিপত্র অনুযায়ী কমিটি গঠনকল্পে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মতিন তিনবার সভা আহ্বান করেন। কিন্তু পার্শবর্তী চর ধোপাপাড়া গ্রামের মো. জয়নালের ছেলে সামিদুল নিজে সভাপতি হওয়ার জন্য কিছু বখাটে ছেলেপেলে সঙ্গে নিয়ে এসে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ভীতি প্রদর্শন করে কমিটি গঠনের শান্তি পূর্ণ পরিবেশ উত্তপ্ত ও বিনষ্ট করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সামিদুল তার সন্তান মোছা. সিনহা খাতুন শহরের হৈমবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। তিনি অবিভাবক সদস্য হয়ে সভাপতি হওয়ার জন্য হঠাৎ করে তার সন্তানকে নিয়ে এসে রহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে চাপ সৃষ্টি করে। এলাকার বখাটে ছেলেপেলে সঙ্গে নিয়ে ভীতি প্রদর্শন। দলীয় নেতাদের দিয়ে ফোন করে প্রভাব খাটানো। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সুপারিশে প্রাথমিকভাবে ক্লাস করার অনুমতি দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। সামিদুলের এমন কর্মকাণ্ডে চরমভাবে সংক্ষুব্ধ রহিমপুর গ্রামবাসী। তাদের অভিযোগ, একদিকে এলাকায় শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানে অবস্থিত গ্রামের সম্মান এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
গ্রামবাসী বলছেন, তারা রহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা কমিটিতে নৈতিকতা বর্জিত টাউট-বাটপার ও বহিরাগত কোনো ব্যক্তিকে গ্রহণ করবেন না। গ্রামের যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকেই সভাপতি নিযুক্ত করার দাবি তাদের। শান্তিপূর্ণ কার্যক্রম যেন সামিদুলের কারণে বিনষ্ট না হয় এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, ‘সামিদুল সাহেব তার মেয়েকে ভর্তি করতে আসেন। কিন্তু এখন জুন মাস চলে। কোনোভাবেই ভর্তি করা সম্ভব নয়। পরবর্তীতে আমি বিষয়টি আমাদের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানিয়ে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা কমিটিতে না থাকার শর্তে ভর্তি করেছি। ম্যানেজিং কমিটিতে সামিদুল সাহেবের থাকার সুযোগ নেই।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান অগ্রদূতকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। সামিদুল সাহেবে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা সদস্য হতে পারবেন না। আমার হাতে কমিটির সদস্যদের যে তালিকা রয়েছে তাতে সামিদুলের নাম নেই।’
এ বিষয়ে জানতে সামিদুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, সামিদুল ইসলাম ভুয়া এনজিও খুলে সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে গ্রাহকদের প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এ নিয়ে ২০২০ সালে গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়। তৎকালীন সেই নিউজে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একাধিক মামলার আসামিও তিনি।