
থানায় মাসে ৬০ হাজার টাকা দেই’— এমন দাবির পরই অভিযান, ইয়াবাসহ মা-ছেলে আটক; ৬ মাসে কালীগঞ্জে বিপুল মাদক উদ্ধার
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র, চোরাই যানবাহন ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে মাদক সংক্রান্ত ৪৯টি মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিয়মিত মামলায় ৪.৮৫৬ কেজি গাঁজা, ১ হাজার ৩৭২ পিস ইয়াবা, ১৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১৯ বোতল ফেন্সিডিল ও ১ হাজার মিলিলিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া জিডি মূলে ২৪ বোতল এবং যৌথ অভিযানে আরও ৩২৪ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও বিভিন্ন অভিযানে নগদ ৪০ হাজার টাকা, ৩৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৩৫ মন ধান, ৫০ বস্তা ইউরিয়া সার, ৩০টি এক হাজার টাকার জাল নোট, ৩১টি ভারতীয় বেনারসি শাড়ি, একটি ল্যাপটপ, একটি ইজিবাইক, ৯টি মোটরসাইকেল, একটি ট্রাক্টর, একটি বাস, একটি বিদেশি পিস্তলসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। যৌথ অভিযানে ৪টি শুটার গান, একটি একনালা বন্দুক, একটি রিভলভার ও ৪টি ককটেলও জব্দ করা হয়।
এরই মধ্যে গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে কালীগঞ্জ শহরের নদীপাড়া এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রুপালি খাতুন (৪০) ও তার ছেলে আল-আমিনকে (২২) আটক করে পুলিশ। রুপালি খাতুন শহরের নদীপাড়া এলাকার মিজান হোসেনের স্ত্রী এবং আল-আমিন ওই দম্পতির ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কালীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে মাদকের বিস্তার রোধে সাধারণ মানুষ উদ্যোগী হয়ে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এর ধারাবাহিকতায় স্থানীয় ১৮ থেকে ২০ জন যুবক নদীপাড়া এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়ে তাদের মাদক ব্যবসা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় যুবক টিটোন হোসেনের দাবি, এ সময় রুপালি খাতুন তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বলেন, “প্রশাসনও আমার কিছু করতে পারবে না, আমি থানা পুলিশকে মাসিক ৬০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা করি।” পরে ঘটনাস্থলে ওসিসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত হলে স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানায়।
পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে রুপালি খাতুনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার কাছ থেকে ২৫ পিস এবং তার ছেলে আল-আমিনের কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। একই সঙ্গে মাদক বিক্রির ১১ হাজার ৭৫ টাকা জব্দ করা হয়। রবিবার (১৪ জুন) সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, “কেউ প্রমাণ দিতে পারবেন না যে কালীগঞ্জ থানার কাউকে মাদকের একটি টাকাও দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে দ্রুত তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।”
কালীগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও অপরাধ নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও আরও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।