
মাদক কোনো সমাধান নয়; বরং এটি জীবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ-এটিএম কামরুল ইসলাম ।
স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে তৃণমূল স্তর হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। ছোট ছোট সমস্যা সমাধানে গ্রাম আদালত একটা ব্যবস্থা। ১৯৭৬ সাল থেকে আইনের মাধ্যমে গ্রাম আদালত প্রচলিত। ২০০৬ সালে আইন সংশোধন এবং ২০১৬ সালে বিধিমালা প্রণয়নের পর গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মামলাভেদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। আবেদনকারী ও প্রতিবাদী পক্ষ থেকে দুজন করে চারজন এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ মোট পাঁচজন নিয়ে গ্রাম আদালত প্যানেল গঠিত হয়। নারীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় হলে গ্রাম আদালত গঠনের ক্ষেত্রে নারী সদস্য মনোনয়ন বাধ্যতামূলক। গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। মাদক কোনো সমাধান নয়; বরং এটি জীবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ। মাদকাসক্ত ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে পরিবার থেকে শুরু করে সামাজিকভাবে সবাইকে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এবং বাল্যবিবাহের কুফল ও সুফল বিষয়ে আলোচনায় বলেন ২০-তে বুড়ি নয় ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে নয়। আগামীতে যাতে বাল্যবিবাহ না হয়, সে বিষয়ে উপস্থিত সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। গাজীপুরের কালীগঞ্জে বাল্য বিবাহ, মাদক ও গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতা মুলক সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম এসব বলেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে কালীগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) তথ্য আপা’র সহযোগীতায় তুমলিয়া ইউনিয়নের উত্তর সোম দারোগা বাড়ীতে বাল্য বিবাহ, মাদক ও গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতা মুলক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম। কালীগঞ্জ উপজেলার তথ্য সেবা কর্মকর্তা সোহা তামান্না এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার উনচার্জ মো. জাকির হোসেন ও তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়া। কালীগঞ্জ থানার অফিসার উনচার্জ মো. জাকির হোসেন বলেন, মাদক মুক্ত কালীগঞ্জ গড়ি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি। মাদক শুধু একজনকে ধ্বংস করে না, একটা পরিবার, একটা সমাজকে পঙ্গু করে দেয়। একটা ছেলে মাদকে জড়ালে শুধু সে নষ্ট হয় না, তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন, তার ভবিষ্যৎ সব শেষ হয়ে যায়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই মানে নিজের ভবিষ্যৎ বাঁচানোর লড়াই। মাদকাসক্তকে ঘৃণা নয়, মাদককে ঘৃণা করুন। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়া বলেন, গ্রাম আদালতে মামলাভেদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। গ্রাম আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় প্রকার বিরোধের নিষ্পত্তি হতে পারে। নিজের কথা নিজে বলা যায়, আইনজীবী লাগে না। গ্রাম আদালতে দেওয়ানি মামলার জন্য ফি ২০ টাকা আর ফৌজদারি মামলার জন্য ফি ১০ টাকা। এখতিয়ারভুক্ত ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে অনধিক তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারেন গ্রাম আদালত। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও স্থাণীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।