
ইফার নতুন ডিজির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী’র প্রতিবাদ !
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী’র শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, প্রশাসনিক কর্মজীবন এবং হজ সংক্রান্ত বিষয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। গত ০৭ জুন ২০২৬ তারিখে ‘দৈনিক কালবেলা’ পত্রিকা এবং এর অনলাইন সংস্করণে **”ইফার নতুন ডিজি মুহাম্মদ মুহিববুল্লার ভয়াবহ প্রতারণা-জালিয়াতি”** শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ অসত্য, কাল্পনিক, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন ইফা মহাপরিচালক। সংবাদপত্রের নীতিমালার আলোকে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার স্বার্থে প্রকৃত সত্য তুলে ধরে মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী’র পাঠানো প্রতিবাদলিপিটি নিচে হুবহু প্রকাশ করা হলো: ১. শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়স সংক্রান্ত বিষয়ের ব্যাখ্যা :”প্রতিবেদনে আমার দাওরায়ে হাদিসের সনদটি জাল বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে রমজানের ছুটির সময় তদন্ত কর্মকর্তা হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে দুজন কথিত শিক্ষকের মৌখিক তথ্যের ভিত্তিতে এই মন্তব্য করেছেন, যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নেই। আমার দাওরায়ে হাদিসের সনদটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং যেকোনো পক্ষ চাইলে এখনো দারুল উলুম মইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে তা যাচাই করে নিতে পারেন। মূলত ১৯৯৬ সালে আমার নিয়োগ দাওরায়ে হাদিসের সনদের ভিত্তিতেই হয়েছিল। দাখিল পরীক্ষার বয়স নিয়ে গাণিতিক জটিলতার যে দাবি করা হয়েছে, তা অবান্তর। তৎকালীন শিক্ষা ব্যবস্থার নিয়ম মেনে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের যথাযথ অনুমোদন সাপেক্ষেই আমি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। বাংলাদেশে ১০ বছর বয়সে দাখিল পাস করার নজির রয়েছে; যেমন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মো. আহসানুল্লাহ ১৯৭৪ সালে ১০ বছর বয়সে দাখিল পাস করেছিলেন। একই বছরে দুই দেশে পড়াশোনার দাবিটিও সত্য নয়। বাংলাদেশে যথানিয়মে দাখিল পাসের পর, নিয়মতান্ত্রিক বিরতি (গ্যাপ) নিয়ে আমি ভারতের বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘(দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা) থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেছি। ফাজিলের সনদের শিক্ষাবর্ষে কোনো দাপ্তরিক অসঙ্গতি থাকলে তা বোর্ডের বিষয়, কোনো ব্যক্তিগত জালিয়াতি নয়।”২. প্রশাসনিক বদলি ও আইনি প্রক্রিয়া : “আমার দীর্ঘ চাকরি জীবনের সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলোকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা হয়েছে। ২০০৮ সালের সাময়িক বরখাস্তের আদেশটি ছিল মূলত আমাকে সিলেকশন গ্রেড থেকে বঞ্চিত করার একটি ষড়যন্ত্র। আমি এর বিরুদ্ধে আইনি মোকাবিলা করলে কর্তৃপক্ষ নিজের ভুল বুঝতে পেরে ০২/০২/২০০৯ তারিখে বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে নেয় এবং পরবর্তীতে আমি মামলাটি ‘নট প্রেসড’ করি। অন্য কোনো ইমামের পদোন্নতি আদেশ বা জ্যেষ্ঠতার তালিকা জালিয়াতির অভিযোগটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। ৪১৫৪/২০১৯ নম্বর রিট পিটিশনের সাথে সংযুক্ত জ্যেষ্ঠতার তালিকাটি ১১/১০/২০১৩ তারিখের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিলেকশন কমিটির সভার কার্যবিবরণীতেই সংযুক্ত ছিল। সুতরাং, এটি জালিয়াতি করার কোনো প্রয়োজন বা সুযোগ ছিল না।” ৩. হালাল সনদ ও শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যপদ : আমি কোনো ক্ষমতার অপব্যবহার করে হালাল সনদ প্রদান করিনি। সরকারের রাজস্ব আয় ও হালাল খাদ্য রপ্তানির সুবিধার্থে তৎকালীন সময়ে দেশে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকায়, একজন মুফতি হিসেবে হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে ধর্মীয় এখতিয়ার থেকে কিছু রপ্তানিকারককে সাময়িক হালাল সনদ দেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে তৎকালীন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে শোকজ করলেও আমার সুনির্দিষ্ট আইনি ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার পর তারা কোনো লঘুদণ্ড দেওয়ারও সুযোগ না পাওয়ায় বিষয়টি সেখানেই সমাপ্ত হয়। এছাড়া, বিভিন্ন ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ডের সদস্য হওয়া কোনো লাভজনক বা নিয়মিত সরকারি পদ নয়। দেশের অনেক নামী মুফতি ও মাওলানা সাহেবগণও এসব বোর্ডে যুক্ত ছিলেন এবং এটি সরকারি চাকরিবিধির কোনো লঙ্ঘন নয়।” ৪. রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে হজ পালন :”প্রভাব খাটিয়ে প্রতি বছর হজে যাওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ দূরভিসন্ধিমূলক। ‘ডিজিটাইলেশন অফ কোরআন’-এর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে আমি এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.কে.এম ইয়াকুব হোসেনকে প্রথমবার সরকারিভাবে হজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বঙ্গভবনে হজ প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে রাষ্ট্রীয় খরচে হজ আদায়ের সুযোগ পাই। এছাড়া তিনবার প্রশাসনিক টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে হজে গিয়েছি, যা সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে। ফাউন্ডেশনের অনেক কর্মকর্তাই পাঁচ বা ততোধিকবার প্রশাসনিক টিমে হজে গিয়েছেন, যার নজির রয়েছে।” ইফা মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী আরো বলেন, “ইসলামিক ফাউন্ডেশনে আমার দীর্ঘ কর্মজীবন ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আমাকে এই গুরুদায়িত্ব প্রদান করেছে। একটি কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল আমার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে এই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি এই অসত্য ও মানহানিকর প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”