
ডিভোর্স জালিয়াতি ও ব্যভিচার রোধে ক্রিকেটার নাসির-তামিমার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন!
সমাজে বৈবাহিক পবিত্রতা রক্ষা, ডিভোর্সে জালিয়াতি বন্ধ এবং পরকীয়া ও ব্যভিচার রোধে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানার চূড়ান্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৮ জুন) সকাল ১১:০০ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুরুষ অধিকার নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠন ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ আল আমিন হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক এবং দেশের বিভিন্ন স্তরের ভুক্তভোগীসহ শতাধিক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
প্রবাসীদের সংসার ভাঙা ও আইনের বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ : মানববন্ধনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নাদিম বলেন, “আজ আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত অসংখ্য প্রবাসী ভাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করছেন যে, তারা দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে দেশে টাকা পাঠান, আর সেই সুযোগে কিছু অসাধু নারী আইনি ডিভোর্স না দিয়েই অন্য পুরুষের সাথে পরকীয়ায় মেতে উঠছেন এবং সংসার ভাঙছেন।”তিনি এই জঘন্য অপরাধের পেছনে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা এবং আইনি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করে বলেন, প্রচলিত ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী কোনো বিবাহিত নারী ব্যভিচার বা পরকীয়া করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা যায় না, যা একটি স্পষ্ট আইনি বৈষম্য। অপরাধী নারী হলেও ‘নারী বিবেচনায়’ জামিন দেওয়া বা লঘু শাস্তি দেওয়ার যে প্রবণতা আদালতে দেখা যায়, তার সুযোগ নিয়েই কিছু স্বেচ্ছাচারী নারী চরম অপরাধে জড়ানোর সাহস পাচ্ছে।বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, পিবিআই (PBI) তদন্ত রিপোর্টে পরিষ্কার প্রমাণিত হয়েছে যে ক্রিকেটার নাসির এবং তামিমা দুজনেই ব্যভিচার এবং ডিভোর্স জালিয়াতির মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত। রাষ্ট্র যেন তাদের কঠিনতম শাস্তি দিয়ে একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করে, যাতে সমাজে এই ব্যাধি দূর হয় এবং ভুক্তভোগী পুরুষরা আদালতে এসে ন্যায়বিচার পাওয়ার সাহস পায়।
আইনি শিথিলতা ও খালাস পাওয়ার আশঙ্কা :ঢাকা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ইফতেখার হোসেন বলেন, “আইনের শিথিলতার কারণে ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার পাচ্ছেন না। প্রবাসীদের কঠোর পরিশ্রমের টাকায় দেশ সচল থাকে, অথচ আইনি ডিভোর্স না দিয়ে জালিয়াতি করার কারণে হাজারো প্রবাসীর সংসার ভেঙে যাচ্ছে।”দপ্তর সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তার বক্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নাসির ও তামিমার আইনজীবী ইতিমধ্যেই দাবি করছেন যে আসামিরা খালাস পাবেন। রায়ের আগেই এমন মন্তব্য প্রমাণ করে যে, সমাজে নারীদের অপরাধে লঘু শাস্তি বা ছাড় দেওয়ার যে প্রবণতা রয়েছে, আসামি পক্ষ সেই সুবিধা নেওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে বসে আছে।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান :মানববন্ধনের শেষ পর্যায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, পুরুষ ও প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে লিঙ্গ বৈষম্যমুক্ত আইন ও বিচার ব্যবস্থার লক্ষ্যে ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষ থেকে দেশের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের এগিয়ে আসার এবং দৃষ্টি আকর্ষণ করার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।