
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে “স্কুলে পৌঁছে দেব” বলে শিশুকে নির্জনে শ্লীলতাহানির অভিযোগ !
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সাত বছরের এক কন্যা শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে তারই এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পামুলি ইউনিয়নের হাকিমপুর নগরডাঙ্গা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি পার্শ্ববর্তী মৌমারী শাপলাকুড়ি কিণ্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত আনোয়ার ইসলাম একই এলাকার সোবহান ইসলামের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তার একটি চায়ের দোকান রয়েছে। তিনিও এক কন্যা সন্তানের জনক বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শিশুটির মা শিউলি আক্তার জানান, ঘটনার দিন সকালে মেয়েকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে কিছুদূর এগিয়ে দিয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যান। পরে বিদ্যালয় থেকে ফোন পেয়ে দ্রুত সেখানে ছুটে যান। শনিবার (২৩ মে) শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ও তার স্বামী দেবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানাতে আসেন।শিশুটির ভাষ্যমতে, মায়ের কাছ থেকে আলাদা হওয়ার কিছুক্ষণ পর আনোয়ার ইসলাম তাকে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে জোরপূর্বক সাইকেলে তুলে নেয়। পরে নির্জন একটি কলাবাগানে নিয়ে গিয়ে তার হাত চেপে ধরে।
এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে পথচারীরা দেখে ফেলতে পারে এই আশঙ্কায় অভিযুক্ত তাকে ছেড়ে দেয়। সেখান থেকে দৌড়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষিকাকে পুরো ঘটনা জানায় শিশুটি। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার মাকে বিষয়টি অবহিত করে। শিশুটির মা আরও অভিযোগ করেন, প্রায় ২০ থেকে ২২ দিন আগেও একই ব্যক্তি তার মেয়েকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের চেষ্টা করে। তবে ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে শিশুটি এতদিন বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি। পরবর্তীতে সাম্প্রতিক ঘটনার পর আগের ঘটনাও পরিবারকে খুলে বলে সে।এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।