
উদ্ধার হওয়া তরুণীকে নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য: শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে হয়রানির অভিযোগ !
যাত্রাবাড়ী থেকে নিখোঁজ হওয়া তরুণী বন্যাকে (১৮) দীর্ঘ ২৩ দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল ১২ মে সকালে সাংবাদিক ফেরদাউস কোরাইশী মেয়েটিকে তার নিজ এলাকা থেকেই উদ্ধার করে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে আসেন। পরে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআইয়ের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তরুণীকে তার বাবার জিম্মায় দিলেও, এই দীর্ঘ সময়ে তার রহস্যময় অবস্থান এবং আচরণ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রহস্যজনক নিখোঁজ ও শ্বশুরবাড়ির প্রশ্ন : বন্যা এতদিন স্বামী বা বাবার বাড়ির কাউকে না জানিয়ে ঠিক কোথায় এবং কেন আত্মগোপনে ছিলেন, তা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন তুলেছেন তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাদের দাবি, দীর্ঘ ২৩ দিন নিখোঁজ থাকার বিষয়টি একটি পরিকল্পিত নাটক হতে পারে। মেয়েটি উদ্ধার হওয়ার পর তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো পরিষ্কার তথ্য না পাওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে সন্দেহের দানা বেঁধেছে। স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে যে, বন্যার এই রহস্যজনক নিখোঁজের পেছনে কোনো গভীর উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
স্বামী ও শ্বশুরের বক্তব্য :
বন্যার স্বামী মানিক অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সে এতদিন কোথায় ছিল, কার কাছে ছিল—তার কোনো সদুত্তর আমরা পাচ্ছি না। আমরা তাকে পাগলের মতো খুঁজেছি, আর সে উদ্ধার হলো নিজের এলাকা থেকেই। এটি আমাদের সামাজিক ও মানসিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার কোনো বড় ষড়যন্ত্র কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। বন্যার শ্বশুর হারুন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার অজুহাতে তার বাবা বিল্লাল মিয়া আমাদের ওপর অকথ্য মানসিক নির্যাতন চালিয়েছেন। আমরা নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এখন মেয়ে উদ্ধার হওয়ার পর তার রহস্যময় আচরণই প্রমাণ করে যে, আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা এই রহস্যের সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
অভিযোগের মুখে কনের পরিবার ও বাবার পাল্টা বক্তব্য :
বন্যার বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে আগে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, মেয়েটি নিজ এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়ার পর তার সত্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মেয়ের বাবা বিল্লাল মিয়ার সাথে ফোনালাপে কথা হলে তিনি শ্বশুরবাড়ির দাবি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে তারা মানসিক টর্চার করার কারণে সে আত্মগোপনে ছিল। আমি সঠিক বিচার পেতে নারী নির্যাতন মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদিও বাবার দাবি মেয়েকে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে, তবে ২৩ দিন পর্যন্ত কাউকে কিছু না জানিয়ে আত্মগোপনে থাকা এবং শেষ পর্যন্ত নিজ এলাকা থেকেই উদ্ধার হওয়া—এই পুরো বিষয়টি বন্যার ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও আচরণের দিকেই আঙুল তুলছে। স্থানীয়দের মতে, শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে অভিযুক্ত করার আগে দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পেছনের প্রকৃত ঘটনা উন্মোচন হওয়া জরুরি।
যাত্রাবাড়ী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই জানান, মেয়েটিকে উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পেছনের প্রকৃত কারণ কী এবং এই ঘটনায় কার কী ধরণের প্ররোচনা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকতে পারে। উল্লেখ্য: গত ১৮ এপ্রিল কাজলা লবণের গলি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর বন্যার দাদি যাত্রাবাড়ী থানায় জিডি করেছিলেন। দীর্ঘ ২৩ দিন পর এই রহস্যময় উদ্ধারের ঘটনায় এলাকা জুড়ে নানা গুঞ্জন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।