1. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
  2. info@www.bhorerawaj.com : দৈনিক ভোরের আওয়াজ :
চাকরি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন ৪৩৮২ কর্মকর্তা-কর্মচারী! - দৈনিক ভোরের আওয়াজ
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর টোল প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত চাকরি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন ৪৩৮২ কর্মকর্তা-কর্মচারী! মেঘনায় ভাঙাচোরা রাস্তায় : দুর্ভোগে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ২০ হাজার কি.মি. খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে: মন্ত্রী এ্যানি মোঃ রফিকুল আলম এর শ্রমিক দিবসের অভিনন্দন! মাদকে জিরো টলারেন্স ঘোষিত আড়াইহাজারে মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রধান বাধা পুলিশ! দৃষ্টিপাত: রাজারহাটের উন্নয়ন ভাবনা মেঘনায় আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কালবৈশাখী ঝড় ও অতিবৃষ্টিতে দীঘিনালায় কৃষকের স্বপ্ন ভেসে গেল! ঐতিহ্য ও শিক্ষার দীপ্ত প্রতীক কালীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ফুলদী

চাকরি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন ৪৩৮২ কর্মকর্তা-কর্মচারী!

শিকদার নুর -ই-আলম সিদ্দিকী মুরাদ
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

স্বাস্থ্যকেন্দ্র হস্তান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তা

চাকরি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন ৪৩৮২ কর্মকর্তা-কর্মচারী দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রকল্প-২য় পর্যায়ের আওতায় নির্মিত ১৯২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চলমান স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে এবং প্রকল্পে কর্মরত ৪ হাজার ৩৮২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় উদ্বেগ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি বহাল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ১৯৯৮ সাল থেকে নগর এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার প্রকল্প। বর্তমানে ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ২১টি পৌরসভা এলাকায় ৩০টি নগর মাতৃসদন কেন্দ্র (সিআরএইচসিসি) এবং ১৬২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ মোট ১৯২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় ৪৫টি পার্টনারশীপ এলাকায় নির্বাচিত এনজিও এবং সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্য, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ চিকিৎসা, রোগ নিরূপণ এবং সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য বিশেষ সহায়তাসহ ১৬ ধরনের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

বক্তারা দাবি করেন, ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় ৩৪ লাখ ৬০ হাজার প্রসব-পূর্ব সেবা এবং ১০ লাখ প্রসব-পরবর্তী সেবা প্রদান করা হয়েছে। এ সময় নরমাল ডেলিভারি ও সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ১ লাখ ৯০ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। এছাড়া ২৯ লাখ ১৪ হাজার পরিবার পরিকল্পনা সেবা, ৯৯ দশমিক ২ লাখ টিকা প্রদান, ১৬ লাখ ৬৭ হাজার কিশোর-কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবা এবং ১ কোটি ২৪ লাখ শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সেবা কার্ডের মাধ্যমে ১ কোটি ৬৫ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়ার তথ্যও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বক্তব্য দেন। ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মোঃ শাহরিয়ার হোসেন, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট; মোহাম্মদ ইউনুস আলী মৃধা, প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্ট; মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া; এবং শিরিন আক্তার, মনিটরিং অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স অফিসার, পিআইইউ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমন্বয় কমিটির প্রধান মোঃ তানভীর হোসেন, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার।

এছাড়া বক্তব্য দেন লায়লা পারভিন, প্রজেক্ট ম্যানেজার; মোহাম্মদুল্লাহ আল মামুন, ম্যানেজার অ্যাডমিন অ্যান্ড ফাইন্যান্স; মোঃ আব্দুল্লাহ আল মানজুর, এমআইএস অফিসার; মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, ল্যাব টেকনোলজিস্ট; ফিল্ড সুপারভাইজার, ক্লিনিক ম্যানেজার ও প্যারামেডিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বক্তারা বলেন, প্রকল্প যে মন্ত্রণালয়ের অধীনেই স্থানান্তর হোক না কেন, সে বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে পিএমইউ, পিআইইউ, পিএ হেডকোয়ার্টারসহ প্রকল্পে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে। তারা জোরালোভাবে দাবি জানান, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিদ্যমান জনবলকে বহাল রাখতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাদ দিয়ে এ প্রকল্প পরিচালনা করা হলে নগর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠী।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে প্রকল্পে পিএমইউতে ৩১ জন, পিআইইউতে ৪১ জন এবং প্রকল্প এলাকায় ৪ হাজার ৩১০ জনসহ মোট ৪ হাজার ৩৮২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯ ও স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন-২০০৯ অনুযায়ী নগর এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার ওপর ন্যস্ত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।

তারা জানান, দেশের প্রায় ৭ কোটি নগরবাসীর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ বর্তমানে এ প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। এ অবস্থায় চলমান কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে।

বক্তারা আরও বলেন, চলমান স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৫ম পর্যায়ের নতুন প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাই বিদ্যমান কাঠামো ও জনবল অক্ষুণ্ন রেখে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়া না হলে ভবিষ্যতে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট