
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বালু মহালের বিরোধকে কেন্দ্র করে মিরাজ হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবার মূল আসামিদের আড়ালের চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। গত ৩ এপ্রিল শিবালয়ের যমুনা নদীর চরাঞ্চল আলোকদিয়ায় গুলি ও কুপিয়ে মিরাজকে হত্যা করা হয়। তিনি পাবনার চর সাহাদিয়ার বাসিন্দা এবং তেওতা বালু মহালের ম্যানেজার ছিলেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিনেই নিহতের বড় ছেলে তারেক শিবালয় থানায় অজ্ঞাতনামা অভিযোগ করেন। কিন্তু দুইদিন পর (৫ এপ্রিল) স্থানীয় বালু মহালের ঠিকাদার কাউছার আলম খান বাদী হয়ে নতুন করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা নং-৬ দায়ের করেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, টাকা ও ক্ষমতার দাপটে তাদের লিখিত অভিযোগ এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি। নিহতের ছেলে তারেক বলেন, “আমরা ঘটনার দিনই থানায় ছিলাম। কাউসার আলম ঘটনাস্থলে ছিলেন না, তিনি কিভাবে বাদী হন? আমার বাবা তাঁর সাথে কাজও করতেন না। আমাদের অজ্ঞাতনামা অভিযোগ রেকর্ড না করে তাকে বাদী বানানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, মামলায় সিরাজগঞ্জের কিছু লোককে আসামি করা হলেও তাদের সঙ্গে বাবার কোনো শত্রুতা ছিল না। বরং কাউসার আলমের লোক শামীম ফকিরের সাথে স্পিডবোট নিয়ে ঝামেলার জেরেই বাবা ভয়ে থাকতেন এবং পালিয়ে পালিয়ে ওখানে যেতেন। পরিবারের দাবি, প্রতি সপ্তাহে ২৫-৩০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়াতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। নিহতের বড় ছেলে তারেক প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, “নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।” নিহতের পরিবার আশঙ্কা করছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল মূল আসামিদের আড়াল করতে চাইছে।