
হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও সরকারি চাকরিতে বহাল রয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর উপ-পরিচালক খালেদ ফয়সাল রহমান। অভিযোগ রয়েছে তিনি ছিলেন বিটিআরসির বিগত সরকারের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। জুলাই মাসে দায়ের হওয়া এক হত্যা মামলায় যাত্রাবাড়ী থানায় আসামি থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো বিভাগীয় বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়নি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।
মামলার নথি অনুযায়ী, খালেদ ফয়সাল রহমানের বাবা কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বিগত সরকারের আমলে কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনিও ওই মামলার অন্যতম আসামি। এছাড়া ফয়সালের বোন যুবলীগ নেত্রী মাশিহা ইসরাত ঐশীও মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
পুলিশ সূত্র জানায়, তাদের গ্রেপ্তারের জন্য ধানমণ্ডি থানার একটি বাসায় একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও অভিযানের সময় সবাই পলাতক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বিটিআরসির মানবসম্পদ, পদোন্নতি ও নিয়োগ ব্যবস্থার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখে একটি বিগত সরকারের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন খালেদ ফয়সাল রহমান।
তিনি নিয়োগ কমিটির সচিব হিসেবে কর্মচারী, ড্রাইভার, এমএলএসএস থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়োগে প্রভাব বিস্তার করতেন। বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকদের যেন চাকরির সুযোগ না মেলে, তা নিশ্চিত করাই ছিল তার অন্যতম ভূমিকা এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। ২০১৩ সালে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করার অভিযোগে ফজলুর রহমান শেখকে বাদ দেওয়ার পেছনে খালেদ ফয়সালের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
খালেদ ফয়সাল রহমান ছিলেন বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদারের স্টাফ অফিসার। সে সময় তার প্রভাব এতটাই বিস্তৃত ছিল যে, তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলার সাহস পেত না। তার বাবার রাজনৈতিক প্রভাবকে ব্যবহার করে প্রশাসনের ভেতরে একটি দুর্নীতিনির্ভর বলয় গড়ে তোলেন বলেও অভিযোগ।
বিটিআরসির নতুন ভবন প্রকল্পসহ বিভিন্ন কাজে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয় বিটিআরসি ও টেলিকম খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বহুদিন ধরেই আলোচিত। এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও খালেদ ফয়সাল রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।