
নোয়াখালী-২ আসনের সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়নের ভোরের বাজারে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের (কাপ পিরিচ) প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে কাজী মফিজুর রহমানের তিন সমর্থক আহত হয়েছেন এবং অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। গতকাল বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার ভোরের বাজারে বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামের ভোরের বাজারে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের নির্বাচনী কার্যালয়ে একটি সভা চলছিল। ওই সময় সড়ক দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের ৮–১০ জন প্রচারণাকারী কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক স্লোগান শুরু হয়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। এ সময় ধানের শীষ প্রতীকের কর্মি সমর্থকরা কাপ-পিরিচের সমর্থকদের দিকে ধাওয়া করে। একই সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ধানের শীষ প্রতীকের কর্মি সমর্থকরা। সংসদ সদস্য প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, সকালে উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়ন ২নম্বর ওয়ার্ডের রাজিবপুর গ্রামে নির্বাচনী কার্যালয়ে একটি সভা করি। সভা শেষে আমি চলে যাওয়ার পর সাবেক চেয়ারম্যান দুলাল, বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন বাবুলের নির্দেশে যুবদলের নেতা ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক মো.পলাশ, মহিউদ্দিন চৌধুরী, মো.কানন, মো,বাদশা মো.রকি, গিয়াস উদ্দিন, পিন্টু, বাদশার নেতৃত্বে ১৫–২০ জনের একটি দল আমার নির্বাচনী অফিসে হামলা-ভাংচুর চালায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করে আমি কোন প্রতিকার পাচ্ছিনা। তারা করছি-দেখবে বলে কালক্ষেপণ করে। ধানের শীষ প্রতীকের নেতাকর্মিদের হুমকি ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত থাকায় এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন বলেন, নির্বাচন অফিসে ভাঙচুর হয়নি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বৈঠকে বিএনপির কিছু লোক ধানের শীষ প্রতীকের স্লোগান দেয়। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। অপরদিকে নোয়াখালী-৩ আসনের বেগমগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির একটি নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতের দিকে উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাকিপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ইমন চৌধুরী রনি বলেন, মঙ্গলবার ভোরের দিকে উপজেলার বাকিপুর গ্রামে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তরা প্রথমে ককটেল বিস্ফোরণ করে। এরপর তারা বিএনপির নির্বাচনী অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পাশের একটি সাইকেল দোকান ও একটি কৃষি উপকরণের দোকান পুড়ে ছাই হযে গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। একটি দল নির্বাচনকে প্রতিহত করতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। বিএনপি নেতাকর্মিরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শামসুজ্জামান বলেন, অগ্নিকান্ডের সূত্রপাতের কিভাবে হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আগুনে একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ও একটি সাইকেলের দোকান পুড়ে গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।