
বাংলাদেশের ‘ইবনে বতুতা’ খ্যাত প্রখ্যাত ভ্রমণসাহিত্যিক, গবেষক ও সাংবাদিক গাজী মুনছুর আজিজের জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে দেশের সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে সিক্ত করা হচ্ছে।
গাজী মুনছুর আজিজের পৈতৃক নিবাস চাঁদপুর সদরের নানুপুর গ্রামে হলেও তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনীমহল গ্রামে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ মুনছুর গাজী এবং মা মরিয়ম বেগম।
ভ্রমণ তাঁর নেশা, আর পথই তাঁর ঘর। দেশ-বিদেশের পাহাড়, নদী, জনপদ আর মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ গল্পকে তিনি তুলে এনেছেন তার লেখায়। ভ্রমণের সময় নদীর পানিতে শরীর ভেজানো, পাহাড়ে পা রাখা, সাইকেল অভিযানে বের হওয়া কিংবা ম্যারাথনে অংশ নেওয়া এসবই তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর নতুন ভ্রমণগ্রন্থ ‘নান্দনিক নেপাল’ পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বইটি প্রকাশ করেছে বেঙ্গলবুকস। প্রচ্ছদ ও বইয়ের নকশা করেছেন আজহার ফরহাদ। বইটিতে নেপালের প্রকৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শিল্প ও খাদ্যজগতের চিত্র নান্দনিক ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে
রূপসী বাংলার রূপের খোঁজে, ভ্রমণের দিন, বাংলাদেশ ভ্রমণসঙ্গী, ভুটান দার্জিলিং ও অন্যান্য ভ্রমণ, অনন্য আরব, পজিটিভ বাংলাদেশ, ফাদার মারিনো রিগন, ৭১-এর খণ্ডচিত্র, অজানা অজন্তা, হজ ও ওমরাহ গাইড, পাখির খোঁজে বাংলাজুড়ে।
তিনি ছড়াবিষয়ক ম্যাগাজিন ‘ঈদ উৎসব’ দীর্ঘদিন ধরে সম্পাদনা করে আসছেন।
প্রয়াত এভারেস্টজয়ী বন্ধু সজল খালেদের স্মরণে প্রতি বছর কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে একক ম্যারাথন করেন তিনি। পাশাপাশি সজল স্মরণে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প অভিযানও সম্পন্ন করেছেন। ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই, সবুজ বিশ্ব গড়তে চাই’ এই স্লোগান নিয়ে তিনি গত বছর ১৩ জুন এভারেস্ট বেস ক্যাম্প (৫,৩৬৪ মিটার) পৌঁছান।
তিনি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সদস্য হিসেবে পাখি শুমারিসহ বিভিন্ন গবেষণায় যুক্ত। একই সঙ্গে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোসহ নানা সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
২০০১ সালে তিনি চাঁদপুরে প্রতিষ্ঠা করেন মুনছুর গাজী ফাউন্ডেশন। এই সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, বই বিতরণ, পাঠাগার পরিচালনা, ইলিশ আড্ডাসহ নানামুখী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
জন্মদিন উপলক্ষে গাজী মুনছুর আজিজের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও আরও সৃষ্টিশীল পথচলার কামনা করেছে দেশের বিভিন্ন সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংগঠন।
সম্পাদনা: শিকদার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী মুরাদ