
দীর্ঘ বিরতির পর আগামী কাল (বৃহস্পতিবার) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফরে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলা শহরের প্রতিটি প্রবেশপথ, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে শোভা পাচ্ছে বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান কাল সকালে সিলেট থেকে যাত্রা শুরু করে পথিমধ্যে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। এরপর তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিকালে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আরেকটি জনসভার মাধ্যমে তাঁর দিনের কর্মসূচি শেষ করার কথা রয়েছে।
নেতাকর্মীদের মাঝে চাঞ্চল্য তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে বাড়তি তোড়জোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জানান, “আমাদের নেতাকে সরাসরি দেখার এবং তাঁর দিকনির্দেশনা শোনার জন্য নেতাকর্মীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এটি কেবল একটি নির্বাচনী সভা নয়, এটি হবে জনসমুদ্র।”
নিরাপত্তা ও জনসভার প্রস্তুতি সরাইলের কুট্টাপাড়া মাঠের জনসভা সফল করতে ইতিমধ্যে জেলা বিএনপি ও উপজেলা বিএনপি দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা করেছে। মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দলও কাজ করছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমানের এই জেলা সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আসনগুলোতে দলের অবস্থান আরও সুসংহত করতে এবং অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো কোন্দল নিরসনে এই সফরটি টনিক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর এই সফর এক ধরনের ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে তৃণমূলের ধারণা।
তারেক রহমানের আগমনী বার্তায় ঝিমিয়ে পড়া কর্মীরাও এখন রাজপথে সরব। সবার দৃষ্টি এখন কালকের জনসভার দিকে—সেখান থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনগণের উদ্দেশ্যে কী বার্তা দেন, তা-ই এখন আলোচনার প্রধান বিষয়।