
পিবিআই ঢাকা জেলা কতৃক গত ০১/১২/২০২৫, তারিখে সাভার মডেল থানাধীন আওলিয়া মডেল টাউন (আমিন মোহাম্মদ হাউজিং) থেকে ৩৮ টুকরো কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। ১৬/০১/২০২৬, তারিখে সাভার থানাধীন আক্রান বাজার ও গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঘটনায় জড়িত ০৩ জন আসামীকে গ্রেফতার ও ভিকটিমের সুষ্ঠিত অটোরিক্সা উদ্ধার করা হয়।
২৯/০৯/২০২৫, তারিখ বিকাল ০৪.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিম মিলন হোসেন (১৫) অটোরিক্সা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হয়। অধিক রাত হওয়ার পরও মিলন বাসায় না ফেরায় তার মা ও আত্মীয় স্বজন মিলন কে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ৩০/০৯/২০২৫, তারিখে আশুলিয়া থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করে। গত ১৮/১১/২০২৫, খ্রিঃ তারিখে ভিকটিম মিলনের মা মোসাঃ জোসনা বেগম বাদী হয়ে মোঃ সুমনসহ অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় অপহরণ মামলা রুজু করেন (আশুলিয়া থানার মামলা নং-৭৩, তারিখ-১৮/১১/২০২৫, খ্রিঃ ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২৫) এর ৭/৩০ তৎসহ ৩৭৯/৩০২/২০১ পেনাল কোড। মামলাটি থানা পুলিশ কর্তৃক তদন্তকালে ০১/১২/২০২৫, তারিখ বিকাল অনুমান ১৬.০০ ঘটিকার সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মাথার খুলিসহ হাড় ও পরিধেয় কাপড় দেখে সাভার থানায় সংবাদ দিলে সাভার মডেল থানা পুলিশ আশুলিয়া মডেল টাউন(আমিন হাউজিং) এর ৬০ ফিট সংলগ্না সাইগাড়া স্কুলের দক্ষিন পাশে কাশবনের ভিতরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মাথার খুলিসহ ৩৮ পিস হাড়, পরিধেয় কাপড় উদ্ধার করেন। বাদী সংবাদ পেয়ে আত্মীয় স্বজন নিয়ে ঘটনাস্থলে। গিয়ে ঘটনাস্থলে থাকা গেঞ্জি, জিন্স প্যান্ট দেখে তার নিখোঁজ ছেলের করাল বলে সনাক্ত করেন। বাদীর আবেদনের ফলে বিগত ০১/০১/২০২৬, তারিখ বিজ্ঞ আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে পিবিআই ঢাকা জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করে এবং পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ জামাল উদ্দীন বিপিএম কে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল মহোদয়ের দিক নির্দেশনায়, পিবিআই ঢাকা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব এম,এন, মোর্শেদ, পিপিএম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব শামসুল আরেফিন এর প্রত্যক্ষ ও সার্বিক সহযোগিতায় পুলিশ পরিদর্শক মোঃ জামাল উদ্দীন, বিপিএম এর নেতৃত্বে পিবিআই ঢাকা জেলার অভিযানিক টিম তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিম মিলন হোসেন (১৫) হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত আসামী মোঃ রনি মিয়া(২৪), পিতা- মজিবুর রহমান, সাং- গোয়ালচালা, পোঃ ফুলবাড়িয়া থানা- কালিয়াকৈর, জেলা- গাজীপুর, ধর্তমানে- সাং-আক্রান বাজার, থানা-সাভার মডেল, জেলা-ঢাকাকে গত ইং ১৬/০১/২০২৬, তারিখ রাত অনুমান ০২.১৫ ঘটিকায় আক্রান বাজার এলাকা হতে গ্রেফতার করে তার তথা মতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন টানসুত্রাপুর এলাকা হতে আসামী মোঃ এরশাদ আলী (৩৪), পিতা-নবাব আলী, মাতা-আনোয়ারা,সাং-মাস্টারপাড়া, পোঃ পামুলি থানা-দেবীগঞ্জ, জেলা-পঞ্চগড়কে এবং উত্তর দাড়িয়াপুর এলাকা হতে আসামী মোঃ আবুল কালাম (৫২), পিতা- মৃত ওসিরুদ্দিন, মাতা- মর্জিনা বেগম সাং-গোড়গ্রাম কিন্তুনিয়া পাড়া, থানা ও জেলা-নীলফামারী, বর্তমানে সাং- উত্তর দাড়িয়াপুর, উভয়খানা-কালিয়াকৈর জেলা-গাজীপুরকে গ্রেফতার করে তাদের দেখানো মতে ভিকটিম মিলন হোসেন এর লুণ্ঠিত অটোরিক্সা উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ রনি মিয়া (২৪), অপর আসামী মোঃ সুমন।(৩০) কে নিয়ে ভিকটিম মোঃ মিলন হোসেন (১৫) এর হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেন এবং আসামী মোঃ এরশাদ আলী (৩৪) ও মোঃ আবুল কালাম (৫২)দ্বয় ভিকটিম মিলন হোসেন (১৫) এর লুষ্ঠিত অটোরিক্সা ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেন।
আসামীদের জবানবন্দি, তথ্য প্রযুক্তি ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে জানা যায় যে, নগদ টাকার প্রয়োজনে অটোরিক্সা চুরির উদ্দেশ্যে হত্যাকান্ডটি ঘটনায়। পূর্ব পরিকল্পনা মতে ২৯/০৯/২০২৫, তারিখ রাত ০৭,০০ ঘটিকায় আসামী সুমন ভিকটিম মিলন হোসেন (১৫) এর অটোরিক্সা ভাড়া করে আক্রান বাজার যায়। সেখানে আসামী মোঃ রনি মিয়া (২৪) কে সঙ্গে নিয়ে ভিকটিমের অটোরিক্সা যোগে সাভার মডেল থানাধীন আশুলিয়া মডেল টাউন( আমিন হাউজিং) এ ৬০ ফিট সংলগ্ন কাশবনের ভিতরে নিয়ে যায়। তারা কাশবনের পাশে রাস্তায় অটোরিক্সা রেখে একত্রে তিন জন গাজা সেবন করে। একপর্যায়ে আসামীদ্বয় ভিকটিম মিলন হোসেন এর গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে কাশবনে মৃতদেহ ফেলে দিয়ে অটোরিক্সাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। অটোরিক্সা নিয়ে যাওয়ার পথে সুমন জিরাবো বাজারের কাছে নেমে পড়ে এবং মোঃ রনি মিয়া অটোরিক্সা নিয়ে রাতে কালিয়াকৈর থানাধীন টানসুত্রাপুর এলাকার মোঃ এরশাদ আলীর নিকট ৬২,০০০/- টাকা বিক্রয় করে তার বাসায় রাত্রীযাপন করে। অটোরিক্সা বিক্রয়কৃত টাকার মধ্যে আসামী মোঃ সুমনকে ৪৪,০০০/- টাকা এবং আসামী মোঃ রনি মিয়া ১৮,০০০/- টাকা নিজের কাছে রেখে দেয়। পরবর্তীতে আসামী এরশাদ আলী দাড়িয়াপুর এলাকার অটোরিক্সা গ্যারেজ মালিক আবুল কালাম এর নিকট ৬৫,০০০/- টাকায় বিক্রয় করে। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ রনি মিয়া ও এরশাদ আলীর দেখানো মতে আবুল কালাম এর গ্যারেজ হতে ভিকটিমের অটোরিক্সা উদ্ধার করা হয়। আবুল কালামকে জিজ্ঞাসায় জানা যায় এরশাদ আলীর নিকট হতে অটোরিক্সাটি ক্রয় করার পর অটোরিক্সাটির রং পরিবর্তন করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতারকৃত আসামীগনকে ১৭/০১/২০২৬, তারিখ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে উক্ত আসামীগন তাদের নিজের দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাঃ বিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যহত আছে।