মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
কালিহাতীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময় সভা বাউফলে প্রধানমন্ত্রীর ছবির উপর অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ লেখার অভিযোগ ঘোড়াঘাটে হারপেস ইনফেকশন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সাইন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং প্রথা বিলুপ্ত ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রাজপথে নামার আলটিমেটাম অসুস্থ ও অসহায় পরিবারের  পাশে দাঁড়ানোর   আহ্বান, এমপি কাজলের ! হাটহাজারীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, কমিউনিটি সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা !  নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও পুনঃতফসিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন শেরপুরে জোর পূর্বক জমি দখলের চেষ্টা আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

লালমনিরহাটে ১১ ডিগ্রিতে নামল তাপমাত্রা, কুয়াশায় স্থবির জীবনযাত্রা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬

জেলায় গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা, সূর্যের তাপ কম থাকায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। শীত ও কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তবে শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেড়েছে অনেক বেশি।

বেশি বিপাকে পড়েছেন নদীপাড় ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। অনেকেই খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তীব্র শীত ও হিমেল বাতাসে শুধু মানুষই নয়, কষ্টে পড়েছে গৃহপালিত পশুপাখিও।

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে সড়কপথে চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজারের শিমুলতলা বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কের পরিবহন চালকরা জানান, সকাল থেকেই কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা খুব কম। এক চালক বলেন, হেডলাইট জ্বালিয়ে, হর্ন বাজিয়ে ধীরগতিতে ঢাকা অভিমুখে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।

তীব্র শীতে শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বড়বাড়ী ইউনিয়নের শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের সামনে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে শিক্ষার্থীরা জানান, প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে অনেকেই প্রাইভেট না পড়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

দশম শ্রেণির ছাত্র মাহমুদুল হক বলেন,এত কুয়াশায় কিছুই দেখা যায় না, ঠান্ডায় দাঁড়ানোই কষ্টকর।

শ্রমজীবী মানুষের কাজেও পড়েছে স্থবিরতা। খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের দিনমজুর আলম মিয়া (৪৫) বলেন, ভোর থেকেই কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে কাজের গতি কমে গেছে। আজ ঠান্ডার জন্য কাজই করা যাচ্ছে না।

আদিতমারীর দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক হোসেন আলি (৫২) জানান, সকালে কাজে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও জীবিকার তাগিদে কষ্ট করে মাঠে যাচ্ছি।

কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের ভ্যানচালক ইসলাম উদ্দিন (৪২) বলেন, অতিরিক্ত ঠান্ডা থাকলেও ভোর থেকে ভ্যান চালাতে হচ্ছে। কিন্তু অনেক যাত্রী এত ঠান্ডায় ভ্যানে উঠতে চায় না।

এদিকে জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। নবজাতক শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তপন কুমার রায় জানান, শীতকালে শিশুদের রোগের সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি অধিকাংশ শিশু সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়াও শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও খিচুনির রোগীও দেখা যাচ্ছে।

তিনি অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, এই শীতে শিশুদের গরম পানি পান করাতে হবে। অসুস্থ হলে পুষ্টিকর খাবার, শাকসবজি ও তাজা ফলমূলের রস খাওয়ানো জরুরি।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, শীতের তীব্রতা বিবেচনায় ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

সূত্র : অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews