
ব্রাহ্মণবাড়িয়া—যাকে বলা হয় দেশের গ্যাস ভাণ্ডার। এই জেলার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস দিয়ে সারা দেশের শিল্প-কারখানা ও চুলা জ্বললেও, এখন খোদ ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। প্রতিদিনের অঘোষিত লোডশেডিং আর গ্যাসের ‘লুকোচুরি খেলায়’ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলা শহরের বাসিন্দারা।
দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসহীন চুলা: ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এখন গ্যাস থাকা আর না থাকা সমান কথা। প্রতিদিন সকাল ১০টা বাজার আগেই লাইন থেকে গ্যাস উধাও হয়ে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দুপুরের দিকে গ্যাস এলেও রান্নার পর্যাপ্ত প্রেশার থাকে না। রাত ১১টা বাজতে না বাজতেই আবারও গ্যাস চলে যায়। এই অদ্ভুত সময়সূচীর কারণে গৃহিণীদের রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম বিপাকে পড়ছে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ।
জনমনে তীব্র ক্ষোভ: স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও চায়ের আড্ডায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “যে জেলার গ্যাস দিয়ে সারা বাংলাদেশের চাকা সচল থাকে, সেই জেলাতেই কেন গ্যাস সংকট থাকবে? এটি কেবল সংকট নয়, বরং আমাদের সাথে এক প্রকার প্রহসন।” অনেক গ্রাহক বাধ্য হয়ে লাইনের গ্যাস বিল দেওয়ার পাশাপাশি বাড়তি খরচে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন।
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের বক্তব্য: সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করেন, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির যথাযথ তদারকির অভাবে এই সংকট তৈরি হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের দোহাই দিয়ে স্থানীয় গ্রাহকদের বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ ও পাইপলাইনের জীর্ণ দশার কারণেও প্রেশার কমে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষ এই ‘গ্যাস নাটক’ বন্ধে এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট গ্যাস কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায়, এই বঞ্চনার প্রতিবাদে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।