
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া এলাকায় টিকটক থেকে পরিচয়, অতঃপর প্রেম ও বিয়েকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একাধিক মামলায় এক প্রবাসীর জীবন তছনছ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে দীর্ঘ এক মাস ১০ দিন কারাভোগ করেছেন নির্দোষ প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম, যার ফলে বাতিল হয়ে গেছে তার বিদেশের ভিসা। বর্তমানে তিনি কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুট্টাপাড়া পশ্চিম পাড়ার আফরান আহমেদ বকুলের সঙ্গে সরাইল থানার রাশেদ আলীর মেয়ে সুমাইয়ার পরিচয় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে। বকুল প্রবাসে থাকাকালে তাদের প্রেম গভীর হয়। বকুল দেশে ফিরে আসলে পরিবার সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তারা পালিয়ে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৪৫১)।
একই ঘটনায় দুই মামলা: বিয়ে মেনে না নিয়ে সুমাইয়ার বাবা রাশেদ আলী প্রথমে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চারজনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন। আদালত বিষয়টি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত চলাকালেই গত ৩ সেপ্টেম্বর একই ঘটনায় সরাইল থানায় পুনরায় মামলা করেন রাশেদ আলী। একই বিষয়ে পৃথক দুই মামলায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জবানবন্দি ও গর্ভপাতের অভিযোগ: আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সুমাইয়া জানান, তিনি নিজ ইচ্ছায় বকুলকে বিয়ে করেছেন এবং বাবার বাড়িতে ফিরতে চান না। তবে কিছুদিন শিশু সংশোধনাগারে থাকার পর তার বাবা তাকে জিম্মায় বাড়ি নিয়ে যান। পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সুমাইয়ার জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয়েছে। এই ঘটনায় বকুলের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে পাল্টা মামলা করেছেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
সর্বস্বান্ত প্রবাসী সিরাজুল: পুলিশ এই মামলায় বকুলের বড় ভাই প্রবাসী সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করলে তিনি ৪০ দিন কারাভোগ করেন। জামিনে মুক্ত হয়ে সিরাজুল ইসলাম আর্তনাদ করে বলেন, “আমি দুই মাসের ছুটিতে দেশে এসে মিথ্যা মামলায় ফেঁসে গেছি। জেলে থাকায় আমার বিদেশের ভিসা বাতিল হয়ে গেছে। এখন আমি পুরোপুরি কর্মহীন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা মীমাংসার কথা বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য সুরুজ আলী এক লাখ টাকা নিয়েছেন। যদিও সুরুজ আলী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো টাকা নেননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য: অনুসন্ধানে জানা যায়, বকুল বর্তমানে ঢাকায় সেলুনে কাজ করেন। তার আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান মেনে নিতে না পেরেই সুমাইয়ার পরিবার এই বিরোধের সূত্রপাত করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।