
রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী থানাধীন ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেওডোবা মৌজায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মোরশেদা বেগম (৬৩) জানান, তার স্বামী মরহুম মতিয়ার রহমান কবলা দলিলের মাধ্যমে দেওডোবা মৌজায় আবাদি জমি ও একটি পুকুর ক্রয় করেন। জমিটি তাদের বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি জমিটির মালিকানা দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে তারা জমিতে আমন ধান চাষ করেন এবং পুকুরে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মাছের পোনা ছাড়া হয়। ধান কাটার পর গত ১৯ ডিসেম্বর সকালে অভিযুক্তরা জমিতে গাছ লাগানোর চেষ্টা করলে তার ছেলে বাধা দেন। এ ঘটনায় ওই দিনই কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২১ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র, পাওয়ার টিলার ও শ্যালো মেশিন নিয়ে দলবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে চাষাবাদ শুরু করে এবং পুকুরের পানি সেচ দিতে থাকে। এতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা মোরশেদা বেগমের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তার বাম হাত গুরুতরভাবে জখম হয়।
এ সময় আরও অভিযোগ করা হয়, মারধরের একপর্যায়ে তার ছেলের পকেট থেকে ১৪ হাজার ৭০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মোরশেদা বেগমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় ও গনমাধ্যম কর্মীদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ভুক্তভোগীরা হাসপাতালে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা পুকুরের পানি সেচ দিয়ে প্রায় এক লাখ টাকার মাছ মেরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার কোতয়ালী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছে। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জমি ও জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শাহজাহান আলী বলেন তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান