
রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার রাজাপুর বাজারের স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির আঞ্চলিক কার্যালয়। ওই অগ্নিকাণ্ডকে প্রতিপক্ষ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নাশকতা বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তারা যে কোনো সময় চড়াও হতে পারে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি ঘরের ওপর । ফলে সেখানে ঘটতে পারে জীবন হানি অথবা রক্তপাতের মত বড় কোনো অঘটন। জানা গেছে, শনিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের রাজাপুর বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন বিএনপির আঞ্চলিক কার্যালয়টিতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানায়, ওইদিন গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা এক রিক্সা ভ্যান চালক বিএনপির কার্যালয়টিতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে ডাক-চিৎকার দেয়। এতে বাজারের দোকানদার ও আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা ছুটে আসেন। তারা পানি ছুড়ে আগুন
নেভানোর চেষ্টার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের টিম সেখানে পৌঁছার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। ততক্ষণে বিএনপি কার্যালয়ের টিনের ঘরটিয় একাংশসহ ঘরের ভেতরে থাকা নানা প্রকার আসবাবপত্র ও ব্যানার-ফেস্টুন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আংশিক অথবা
সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। তবে এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ধারণা এটি তাদের প্রতিপক্ষ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নেতা-কর্মীদের নাশকতা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন গৌরনদী উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লবসহ গৌরনদী উপজেলা, পৌর
ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ গন। এ সময় সৈয়দ সরোয়ার আলম বলেন, এ ঘটনা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের নাশকতা সৃষ্টির একটি অংশ। তিনি আরো বলেন, আমি জানতে পেরেছি
ইতিপূর্বে শেখ হাসিনার বিচারের রায় ঘোষণার দিন রাতে এই এলাকায় মুখোশ পড়ে মুখমণ্ডল ঢেকে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা মশাল মিছিল করেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে তখন তারা পালিয়ে যায়। বিএনপির কার্যালয় অগ্নিসংযোগ তাদের ওই নাশকতা মূলক কর্মকাণ্ডেরই একটি অংশ। একই সময় তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি দাবী জানিয়েছেন। তদন্তে এটি নাশকতা বলে প্রমাণিত হলে, ঘটনার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করে করে আইনের আওতায় কঠোর শাস্তিরও দাবী জানান তিনি । গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোঃ বিপুল হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমাদের টিম সেখানে পৌছার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলে। এরপর
তারা মোবাইল ফোনে এ খবর আমাদের জানালে আমরা আর ঘটনাস্থলে যাইনি। ফলে ওই অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে কোন তথ্য আমরা দিতে পারছি না। বার্থী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোঃ ইসাহাক সন্যাম বলেন এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে আমি শনিবার রাতে গৌরনদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত হয়ে আছে ওই এলাকার বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
তারা যে কোনো সময় এলাকার সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি ঘরের ওপর চড়াও হতে পারে। এ দিয়ে এলাকায় জীবনহানি অথবা রক্তপাতের মত বড় কোনো অঘটন ঘটতে পারে। গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর শুনে থানার ওসি (তদন্ত)) মোঃ মাহাবুবুর রহমান ও এস.আই নাঈমুল ইসলাম এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। বিএনপি’র পক্ষ থেকে মামলা দেয়া হলে, মামলা গ্রহণ করা হবে।