রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক জামায়াত সমর্থকের হাত ভাঙার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী জামায়াত সমর্থক ও কাঠ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ তোজাম্মেল হোসেন জানান, গত ১৩ নভেম্বর তারিখ সন্ধ্যায় পীরগঞ্জ থানার ১১ নম্বর পাঁচগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুস মণ্ডল দলের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ মাহফুজুর রহমান মাফুর বাড়িতে লকডাউন কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে গোপন বৈঠক করছিলেন। ওই সময় তোজাম্মেল ব্যবসার কাজে পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালান।
তিনি বলেন, “আমাকে টেনে-হিঁচড়ে মাহফুজুর রহমানের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। এতে আমি রক্তাক্ত হই এবং আমার হাত ভেঙে যায়। এছাড়া আমার কাছে থাকা টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করা হয়।”
স্থানীয়রা খবর পেয়ে পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে উপজেলা জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমীন তাকে দেখতে যান। তিনি বলেন, “মানবিক অবস্থান থেকেই আমি তাকে দেখতে গিয়েছি।”
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলার জামায়াতের আমীর মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের সংগঠন সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে সংঘর্ষ হয়নি। তবে যদি অন্যায়ভাবে কোনো সমর্থকের ওপর হামলা হয়ে থাকে, আমরা তা সংগঠনিকভাবে প্রতিবাদ জানাব।”
অভিযুক্ত পাঁচগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ফোন রিসিভ করেও পরিচয় দেননি কেউ।
পীরগঞ্জ থানার এসআই জুলফিকার বলেন, “মূলত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই মারামারির ঘটনাটি ঘটেছে।”