বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
সাতক্ষীরায় পেশাজীবী চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন  গোমস্তাপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন  রামুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা, আটক ৩ গোবিন্দগঞ্জে বাক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক বৃদ্ধ গ্রেফতার  ! প্রতিকূল আবহাওয়ায় অনুপস্থিত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বিশেষ সুযোগ পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সিরাজগঞ্জে ১,৬৭১টি সরঃ প্রাথঃ বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি’র উদ্বোধন নগরের খেলার মাঠ ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী স্কুল পরিষ্কার রাখতে শিশুদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দিনাজপুর জেলা পরিষদের আয়োজনে উন্নয়নমূলক কাজের ২৫ লক্ষ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর এসডি থাকা ১০১ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বণ্টন !

কর্ণফুলীর তীরে এক নিঃশব্দ দীপ্তি: কামাল চোবান!

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৫

মনের আয়নায় সেই যে মানুষটির কথা লিখতে বসলাম -সেই মানুষটিকে
আমার ছেলের শাশুড় হিসেবে জীবনের ঘূর্ণিপাকে হঠাৎ করে একদিন আমার সামনে উদ্ভাসিত হলেন তিনি—কামাল চোবান। নামটি উচ্চারণ করলেই হৃদয়ের গভীরে নেমে আসে এক অদ্ভুত শান্তি, এক নির্মল আত্মিক দোলন। মনে হয়, বহু আগে কোনো এক অস্তরাগ সন্ধ্যায়, তাকে নিয়ে লেখা হয়েছিল এক অপূর্ব কবিতা—যার প্রতিটি পঙ্‌ক্তি আমার মনের অন্দরমহলে ছড়িয়ে আছে।
আমার সঙ্গে তার পরিচয় যেন এক অভ্যন্তরীণ আত্ম-আবিষ্কারের গল্প। আমাদের নাম আলাদা, অথচ হৃদয়ের ছন্দে একই কাব্যের সুর। চিন্তায়, ভাবনায়, ভালোবাসার বোধে—আমরা যেন একই মাটি থেকে জন্ম নেওয়া দুটি চারাগাছ, আলাদা ডালপালা হলেও শিকড় এক গভীর সত্তায় গাঁথা।
কামাল চোবান শুধু একজন মানুষ নন, তিনি আমার আত্মার নির্ভরতার নাম। তার না বলা কথাগুলো আমার মনের নির্জন কোণে প্রতিধ্বনি তোলে। আমাদের এই মিল, এই সাযুজ্য, এই অনির্বচনীয় হৃদ্যতার ভাষা—হয়তো সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে স্নিগ্ধ কাব্যরচনা।
Some people will only love you as long as you fit in their box. Don’t be afraid to disappoint.
I will never get tired of asking Allah for what I want because He never gets tired of giving me what I want. And Allah loves those who ask.
কখনো কখনো দুটো বাক্যই হয়ে ওঠে একেকটি জীবনের মর্মস্পর্শী প্রতিচ্ছবি। কামাল চোবান ভাইকে আমি যখন দেখি, এই দুই বাক্যই যেন তাঁর জীবনের দুই দিক। একদিকে সমাজের প্রতিস্ঠিত সীমার মাঝে নিজেকে খাপ খাওয়াতে না পারার যন্ত্রণায় এক ধরনের নিঃসঙ্গতা, আর অন্যদিকে এক অনন্ত আস্থায় ভর করে আল্লাহর দরবারে বারবার প্রার্থনা, ভাঙা মন নিয়ে—তবু ভালোবাসায় পূর্ণ।
তিনি এখন একজন ইঞ্জিনিয়ার, আত্মমর্যাদাশীল ও প্রতিভাধর এক মানুষ। সম্পর্কে আমার বিয়াই, তবে এই সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি আমার হৃদয়ের একজন কাছের মানুষ। আমার লেখার একজন নিঃস্বার্থ পাঠক, যার চোখের ভেতরে আমার শব্দেরা আশ্রয় খুঁজে পায়।
জন্ম চট্টগ্রামের আনোয়ারায়—যেখানে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বাতাসে লোনা জলের ঘ্রাণ মিশে থাকে। পাশে পাহাড়, দূরে বঙ্গোপসাগর—আরও দূরে নয়, চোখের দৃষ্টিতেই বন্দরের জাহাজ আর আকাশে ওড়োজাহাজ। সেই আবহের ভিতর জন্ম নেওয়া এই মানুষটি যেন প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর প্রিয় নদী কর্ণফুলী যেমন আপন বুকে সমস্ত স্রোতকে ধারণ করে—তেমনি তিনিও জীবনের তৃষ্ণা, দুঃখ, ব্যথা—সবকিছু নিঃশব্দে বয়ে নিয়ে চলেছেন।
এই মানুষটির জীবন এক প্রেমগাঁথার মতো। একদিন তাঁর পাশে ছিলেন এমন একজন, যিনি ছিলেন প্রাণের সঙ্গী। আজ তিনি নেই। তাঁর প্রিয়তমা চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন এক বিশাল শূন্যতা। সেই অভাব আর যন্ত্রণাকে তিনি কখনো উচ্চারণ করেন না—তবে চোখের গভীরতা বলে দেয়, কেউ একজন ছিলো, যাঁর অভাব আর কোনো কিছু দিয়েই পূরণ হবার নয়।
বাড়িতে সবাই আছে, কিন্তু তিনি বলেন—আসলে কেউ নেই। এ এক নিঃসঙ্গতার আর্তি, যা শব্দে ধরা যায় না। নীরব সংসার, নিরুত্তাপ দুপুর, নরম আলোয় ভেসে থাকা সন্ধ্যা—সবকিছু যেন তাঁকে মনে করিয়ে দেয় তাঁর সঙ্গিনীর অনুপস্থিতি। তবু তিনি বেঁচে থাকেন, হাঁটেন, হাসেন, ভালোবাসেন—যেমন ভালোবাসেন তাঁর নাতিদের। আমার নাতিদের ‘নানা’। তাঁর স্নেহে তারা খুঁজে পায় এক অদ্ভুত নির্ভরতা, যা রক্তের সম্পর্কের গভীরতার বহিঃপ্রকাশ ।
কামাল ভাইয়ের জীবন অনেকটা কর্ণফুলী নদীর মত—চুপচাপ, অথচ প্রাণময়। সবার চোখ এড়িয়ে তাঁর প্রতিটি দিনের মাঝে জমে থাকে গভীর ব্যথা, অনুচ্চারিত ভালোবাসা, আর একাকীত্বের দীর্ঘশ্বাস। তবে তিনি জানেন—আল্লাহর কাছে চাওয়া কখনো বৃথা যায় না। তাঁর প্রার্থনায় সেই গভীর আত্মবিশ্বাস, যেটা তাঁকে টিকিয়ে রেখেছে এত বছর।
“I will never get tired of asking Allah…” —এই বাক্যটি শুধু তাঁর বিশ্বাস নয়, তাঁর জীবনের চালিকাশক্তি।
আমি অনেক দিন ধরেই তাঁকে নিয়ে লিখতে চেয়েছি। আজ লিখতে পেরে এক ধরনের শান্তি অনুভব করছি। কারণ, এই মানুষটিকে যতটা কাছে থেকে জেনেছি, বুঝেছি, ততটা আর কেউ হয়তো পায়নি। তাঁর চোখে আমি দেখেছি একজন নিঃস্বার্থ ভালোবাসাবাদী মানুষকে, একজন একাকী জীবনযোদ্ধাকে, একজন সাহসী কিন্তু সংবেদনশীল পুরুষকে—যিনি নিঃশব্দে ভালোবাসেন, না বলে সবকিছু বুঝে যান।
কর্ণফুলীর ঢেউ যখন আছড়ে পড়ে নীরবতায়, আমি ভাবি—এই মানুষটিও কি এমনভাবেই আঘাত সয়ে যাচ্ছেন চুপচাপ?
পাহাড় যেমন নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকে যুগ যুগ ধরে, তিনিও তেমনি দাঁড়িয়ে আছেন—কারও জন্য অপেক্ষায়, অথবা শুধু নিজের শান্তির খোঁজে।
এই লেখা তাঁর জন্য, যেন তিনি জানেন—ভালোবাসা হারিয়ে যায় না, বদলে যায় তার রূপ। আমি, আমরা—সবাই তাঁকে ভালোবাসি। তাঁর নাতিরাও তাঁর ভালোবাসায় সিক্ত। জীবন তাঁকে যা কিছু কেড়ে নিয়েছে, তার কিছুটা ফিরিয়ে দিতে পারে এই লেখা—যদি তা পারে তাঁর বুকের নিঃশ্বাসে একটু প্রশান্তি আনতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews