1. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
  2. info@www.bhorerawaj.com : দৈনিক ভোরের আওয়াজ :
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
‎নবীনগরে গণভোট বিষয়ক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত শ্রীবরদীর ভেলুয়া বাজারে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত  নোয়াখালীতে ২৫০০ কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রংপুরে বধিরদের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  প্রেম, বেদনা আর বাস্তবতার গল্পে ইমন খানের নতুন গান ‘তোমার বাসর রাইতে বন্ধু আমার হইবোরে কবর’ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে  শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন জাতীয়তাবাদী পেশাজীবি দল চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী ভলিবল প্রতিযোগিতা ঝিনাইগাতীতে অবকাশ স্বপ্ন কৃষি সমবায় সমিতির ১ম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

আজ ২২ মার্চ মাস্টার দা সূর্য সেনের ১৩১ তম জন্ম দিবস ও কিছু কথা

মোঃ কামাল উদ্দিন
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২২ মার্চ, ২০২৫

সূর্যকুমার সেন প্রকাশ মাস্টারদা, সেই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক যুব বিদ্রহের নেতৃত্ব প্রদানকারি সূর্য সসেনের আজ ১৩০ তম জন্মদিন।
২২শে মার্চ ১৮৯৪সালে আজকের এই দিনে সূর্যসেনের জন্ম, চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানা, নোয়াপাড়ার এক পল্লী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মাস্টার দা সূর্য সেন। আমি একজন সূর্য সেন ভক্ত আন্দোলন প্রেমি সংগঠক ও লেখক হিসাবে এই মহান অগ্নিপুরুষ
বিপ্লবীর জন্ম দিনে,চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম ও বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের পক্ষ থেকে সূর্য সেনের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। সূর্য সেনের জন্মের ও কর্মে কথা একটু শুনানোর প্রয়োজন, সূর্য সেনকে জানার এবং বুঝার জন্য সূর্য সেনের বিপ্লবী জীবন কাহিনি অধ্যায়ন করতে হবে। চলুন সূর্য সেনের পারিবারিক কিছু কথা শুনে আসি, ভারত বর্ষের ইংরেজি শাসকদের আতংকিত বিপ্লবী সূর্য সেনের পরিবারটি অর্থনৈতিক ভাবে খুবই এত ভালো ছিল না। তাঁর পিতা রাজমনি সেন ও মাতা শশী বালা সেনের ছটি সন্তানের মধ্যে চতুর্থ সন্তান ছিলেন সূর্য সেন। তাঁরা মোট দুই ভাই ও চার বোন ছিলেন। মাস্টার দা সূর্য খুব অল্প বয়সেই তাঁর মাতা-পিতাকে হারান, ফলে তিনি তাঁর কাকা গৌরমনি সেনের কাছেই মানুষ হন।
মাস্টারদা সূর্য সেনের শিক্ষা জীবন-ছোট বেলা থেকেই সূর্য সেন পড়াশোনার দিকে পারদর্শী ছিলেন, তিনি দয়াময়ী উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরে নোয়াপাড়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে তিনি হরিশদত্তের ন্যাশনাল স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষা পাশ করে তখনকার
সময়ের এবং এখনো বাংলার বিখ্যাত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত সেই চট্টগ্রাম কলেজে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হন সূর্য সেন। এখানে তিনি এফ. এ. পাশ করে ও বি.এ-তে ভর্তি হন। তবে বেশ কিছু কারণে তাঁকে এই কলেজ থেকে বিতাড়িত করা হয়। ফলে, তাঁকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত মুর্শিদাবাদ জেলার বিখ্যাত একটি মহাবিদ্যালয় বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে থেকে তাঁর বি.এ কমপ্লিট করতে হয়।মাস্টারদা সূর্য সেনের কর্ম জীবন ও বিবাহ: বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে বি.এ কমপ্লিট করার পর তিনি চট্টগ্রামে ফিরে এসে হরিশদত্তের ন্যাশনাল স্কুলেই শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলনের ফলে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায় তাতে তিনি উমাতারা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে গণিতের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন।বিপ্লবী ভাবধারার কারণে মাস্টার দা সূর্য সেন বিবাহ করার পক্ষে ছিলেন না। তবে চন্দ্রনাথ সেন ও অন্যান্য আত্মীয়দের চাপে তিনি ১৯১৯ সালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কানুনগোপাড়ার নগেন্দ্রনাথ দত্তের ষোল বছরের কন্যা পুষ্পকুন্তলা (কটকটি) দত্তকে বিয়ে করেন। তবে তিনি তাঁর বিবাহের তিন দিন পরেই গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসেন। ১৯২৬ সালে তাঁর স্ত্রী টাইফয়েড রোগে মারা যান।
মাস্টারদা সূর্য সেনের বিপ্লবী জীবন: বহররমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে পড়াশোনা করার দরুন তিনি যুগান্তর দলের সদস্য অধ্যাপক সতীশচন্দ্র চক্রবর্তীর সন্নিকটে আসেন এবং বিপ্লবি ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত হন। এর পর ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে এসে তিনি অনুরূপ সেন, চারুবিকাশ দত্ত, অম্বিকা চক্রবর্তী, নগেন্দ্রনাথ সেন প্রমুখদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে গোপন বিপ্লবী দল গঠন করেন। শিক্ষকতার সাথে যুক্ত থাকার কারণে তাঁকে অন্যান্য বিপ্লবীরা মাস্টার দা নাম দেন।
১৩ই ডিসেম্বর ১৯২৩সালে টাইগার পাস এর মোড়ে সূর্য সেনের গুপ্ত সমিতির সদস্যরা পাহাড়তলীতে অবস্থিত আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কারখানার শ্রমিকদের বেতনের ১৭০০০টাকার বস্তা ছিনতাই করে ছিলেন। এবং এই ঘটনার কারণে কিছু দিন পরে গুপ্ত সমিতির গোপন বৈঠক চলাকালীন সেখানে পুলিশ চলে আসে এবং গুপ্ত সমিতির সদস্য ও পুলিশের মধ্যে খন্ডযুদ্ধ হয়েছিলো । এই ঘটনাটিই “নাগরখানা পাহাড় খন্ডযুদ্ধ” নামে পরিচিত।
চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন: বিদ্রোহকে আরো তীব্র করার জন্য মাস্টার দা সূর্য সেন ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চিটাগাং ব্রাঞ্চ গঠন করেন এবং ঠিক করা হয় যে ১৮ই এপ্রিল ১৯৩০ সালে চারটি দল মিলে ইংরেজদের ওপর আক্রমণ করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী একদল বিপ্লবী রেল লাইনের ফিসপ্লেট খুলে নেয়। এর ফলে চট্টগ্রাম সমগ্র ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্য একটি দল চট্টগ্রামের নন্দন কাননে টেলিফোন এবং টেলিগ্রাফ অফিসে আক্রমণ করে সব যন্ত্রপাতি ভেঙ্গে দেয় এবং সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। আরেকটি দল পাহাড়তলীতে অবস্থিত চট্টগ্রাম রেলওয়ে অস্ত্রাগার দখল করে সেখান থেকে উন্নতমানের রিভলবার ও রাইফেল লুন্ঠন করে নেয়। এবং একদল বিপ্লবীরা দামপাড়ায় পুলিশ রিজার্ভ ব্যারাক দখল করে নেয়। এই ঘটনা গুলির কারণে চট্টগ্রাম প্রায় চার দিনের জন্য ইংরেজ মুক্ত হয়ে যায়। জালালাবাদ যুদ্ধ: ২২শে এপ্রিল ১৯৩০
সালে বিপ্লবীরা যখন জালালাবাদ পাহাড়ে অবস্থান করছিল তখন সশস্ত্র ইংরেজ সৈন্যরা তাদের ওপর আক্রমণ করে ছিলোন এবং দুই ঘণ্টার যুদ্ধের পর ব্রিটিশ বাহিনীর ১০০জন এবং বিপ্লবী বাহিনীর ১২জন শহীদ হন। এই ঘটনাটিই “জালালাবাদ যুদ্ধ” নামে পরিচিত। মাস্টারদা সূর্য সেনের শেষ জীবন: আগ্নেয়াস্ত্র বহন করার কারণে মাস্টার দা সূর্য সেন কে ১৪ই আগস্ট ১৯৩৪ সালে প্রাণদন্ডে দণ্ডিত করা হয়। এর পর ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি মধ্যরাতে সূর্য সেনকে ফাঁসী দেওয়া হয়।
সূর্য সেনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিলেন পটিয়া দলঘাট থেকে, আমি সূর্য সেনের উপর বিগত সময়ের অসংখ্য লেখা লিখেছিলাম, আজ শুধু মাত্র তাঁর জন্মদিনের স্মৃতির আলোকে কিছু কথা লিখলাম। পরিশেষে আমি আবারও সূর্য সেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখা শেষ করছি।
লেখকঃ সাংবাদিক, কলামিস্ট, টেলিভিশন উপস্থাপক ও মহাসচিব চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট