মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মনোহরদীতে মোবাইল কোর্টের অভিযান: ৩ ইয়াবা সেবীর ৫ মাস করে কারাদণ্ড পিরোলী খানকাহপাড়া সবুজ সংঘের উদ্যোগে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ নৌপথে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে বাল্কহেড মালিক-শ্রমিকদের মানববন্ধন রাজশাহী মোহনপুর উপজেলার প্রবেশ মুখে পিলারে নির্মিত হয়েছে পানের প্রতিক সোনারগাঁয়ে ১,৩০০ ফুট আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন ! ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে হাবিপ্রবিতে নির্মিত হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার নামে ১২ তলা মেগা ছাত্রী হল অনৈতিক সম্পকের জেরে নির্মম হত্যাকাণ্ড, সীমান্ত এলাকা থেকে আসামি গ্রেফতার করেছে পিবিআই অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ‘ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং’ প্রবিধানমালা বাস্তবায়নের দাবি আহ্ছানিয়া মিশনের কালিহাতীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময় সভা

চট্টগ্রামের নিবেদিতপ্রাণ শিশু বিশেষজ্ঞ: ডা. পি কে মজুমদারের মানবিক সেবার গল্প

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে একজন আশীর্বাদ হয়ে উঠেছেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. পি কে মজুমদার। তার মানবিক সেবা, অমায়িক ব্যবহারের কারণে তিনি আজ একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন। ১৯৯০ সালে আমার সঙ্গে তার পরিচয় এবং বন্ধুত্বের শুরু। তখন তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্র এবং আমি রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়। সেই সময় থেকেই আমাদের সম্পর্কের যে সেতু তৈরি হয়েছিল, তা আজও অটুট।
আমার বিয়ের আগে থেকেই আমার চিকিৎসা তিনি করতেন। ১৯৯৫ সালে আমার বড় ছেলের জন্মের পর থেকে তিনি আমাদের পরিবারের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন। আজ আমার নাতনিরাও তার চিকিৎসার ছায়ায় বেড়ে উঠছে। তার সঙ্গে এই দীর্ঘ সম্পর্ক এবং তার সেবার মান দেখে আমি বলতেই পারি—তিনি একজন সত্যিকারের মহামানব।
বর্তমানে ডা. পি কে মজুমদার বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার হাত ধরে অসংখ্য শিশুর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। তার চিকিৎসা শুধু দক্ষতাপূর্ণ নয়, বরং সেবার মনোভাবেও পরিপূর্ণ। তিনি তার নিজ এলাকার (কুমিল্লা লাকসাম) বাইরে চট্টগ্রামের চকবাজারে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে চলেছেন।
ডা. পি কে মজুমদারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি কখনো রোগীকে আর্থিক চাপের মধ্যে ফেলেন না। অসংখ্য রোগীকে তিনি বিনামূল্যে চিকিৎসা দেন। এমনকি, একবার যারা তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন, তাদের তিনি পরবর্তী সময়ে ফোন বা অন্যান্য মাধ্যমে বিনামূল্যে পরামর্শ দিয়ে সুস্থ রাখার চেষ্টা করেন। তার মধ্যে “কসাইয়ের” মতো মনোভাব নেই। বরং তার মানবিক আচরণ সবসময়ই প্রশংসনীয়। তিনি বাংলাদেশের যে কোনো বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করে কোটি কোটি টাকা আয় করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই পথ না বেছে নিয়ে চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার চিকিৎসার মধ্যে যেন সৃষ্টিকর্তার সরাসরি আশীর্বাদ কাজ করে। অনেক সময় দেখা যায়, তার স্পর্শেই রোগী সুস্থ হয়ে যায়। তার চিকিৎসার মান এবং আন্তরিকতা এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে যা তাকে এই সমাজের একজন আদর্শ চিকিৎসকের রূপ দিয়েছে। আমার পরিবার তার কাছে চিরঋণী। কখনো তিনি আমাদের কাছ থেকে কোনো আর্থিক প্রতিদান নেননি। একজন বন্ধু এবং চিকিৎসক হিসেবে তিনি অনন্য। তার সেবার কথা লিখে শেষ করা যাবে না। যারা তার কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন, তারা অবশ্যই তার এই মহানুভবতার সাক্ষী থাকবেন।
আমি তার সুস্বাস্থ্য এবং আরও দীর্ঘ সেবা জীবনের জন্য প্রার্থনা করি। একজন প্রকৃত মানবিক ডাক্তার হিসেবে তার মতো মানুষের প্রয়োজন প্রতিটি সমাজেই। ডা. পি কে মজুমদারের অবদান চট্টগ্রামের মানুষের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews