রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

অস্ত্র মামলায় ফজলে করিম চৌধুরীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৪




ফ্যাসিবাদী সরকারের গডফাদার হিসেবে পরিচিত, রাউজান উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাউজানের গহিরা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করার পর ফজলে করিমের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়।

আজ সোমবার চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সহিদুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে পুলিশ আবেদনের ভিত্তিতে ফজলে করিম চৌধুরীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চট্টগ্রাম জেলা কোর্ট পরিদর্শক জাকের হোসাইন দৈনিক ভোরের আওয়াজকে নিশ্চিত করে জানান, অস্ত্র মামলায় ফজলে করিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল। তবে আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ ফজলে করিমের বাড়ি থেকে ১টি পয়েন্ট ২২ বোরের রাইফেল, ১টি এলজি, ১টি রিভলবার, ১টি শটগান এবং ৭টি গুলি উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রাইফেলের লাইসেন্স ছিল, তবে বাকি অস্ত্রগুলো অবৈধ ছিল। এছাড়া, সরকারি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ অস্ত্র জমা না দেওয়ায় রাইফেলটিও অবৈধ হয়ে যায়। এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় রাউজান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ফজলে করিমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, এবং তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ও সমালোচিত এক চরিত্র। তার বিরুদ্ধে খুন, অস্ত্র পাচার এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তার নাম প্রায়ই উঠে এসেছে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায়। তিনি রাউজান উপজেলা ও তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে আসছিলেন, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।এ বি এম ফজলে করিমের গ্রেপ্তার তার বিভিন্ন অপরাধের দিকে নতুন করে আলো ফেলেছে। ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের আবদুল্লাহপুর এলাকা থেকে তাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আটক করে। বিজিবির দাবি, ফজলে করিম ভারতে অবৈধভাবে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলায় ১৪টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে অনেকটিই অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িত।১৯ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তার কারণে তাকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে আনা হয়, এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে সাতটায় আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার হন এবং রাউজান থানার একটি মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। আদালতের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা তার ফাঁসি দাবি করে স্লোগান দেয় এবং প্রিজন ভ্যানে ডিম নিক্ষেপ করে।
এলাকার জনগণের মধ্যে ধারণা রয়েছে, ফজলে করিমের কাছে প্রচুর পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র রয়েছে, এবং তাকে যৌথ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তার অস্ত্র ভান্ডার অনুসন্ধান করা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয়দের বিশ্বাস, তার কাছ থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা গেলে তার অনেক অপকর্মের রহস্য উন্মোচিত হতে পারে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চলমান রয়েছে, এবং তার অপরাধের সাথে জড়িত আরও তথ্য বের হয়ে আসতে পারে।
ফজলে করিমের বিরুদ্ধে চলছে নানা ধরনের প্রতিবাদ। ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে একটি প্রতিবাদ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয়রা ভার্চুয়াল শুনানির বিপক্ষে সশরীরে তাকে আদালতে হাজির করার দাবি জানান।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে, সরকারের পক্ষ থেকে ফজলে করিম চৌধুরীকে দ্রুত আইনগত বিচারের আওতায় আনার জন্য ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে তার অপরাধের প্রকৃত চেহারা জনসমক্ষে আসতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews