1. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
  2. info@www.bhorerawaj.com : দৈনিক ভোরের আওয়াজ :
ছোট্ট এক জীবন, অগণিত শিশুর মুক্তির স্বপ্ন: ইকবাল মাসিহ’র গল্প" - দৈনিক ভোরের আওয়াজ
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
উজিরপুরে মসজিদের হিসাব চাওয়ায় হামলার!  কুমিল্লায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত।  শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে মেঘনায় বিএনপির আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।  সঠিক নিয়মে যাকাত প্রদানই কোরবানির শিক্ষা।  মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের করণীয় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিদেশি মদের চালান উদ্ধার, আটক বাবা-ছেলে!  জয়পুরহাটে ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ৪৯৬ ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত!  ঈদুল আজহা পারস্পরিক সৌহার্দ্যতা ও ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।  শরীয়তপুরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম!  পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফকির মোখলেছুর রহমান বাবু শাহ্! 

ছোট্ট এক জীবন, অগণিত শিশুর মুক্তির স্বপ্ন: ইকবাল মাসিহ’র গল্প”

মোঃ কামাল উদ্দিন
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ মে, ২০২৫

এক জীবন্ত কিংবদন্তিকে স্মরণে…

জীবনের যে অধ্যায়গুলো আমরা চোখ বন্ধ করে এড়িয়ে যাই, সেই অন্ধকারেই জন্ম নেয় একেকটি জ্যোতিষ্ক। ইকবাল মাসিহ—পাকিস্তানের এক শিশুর নাম, যাকে চিরকাল মনে রাখা উচিত আমাদের বিবেকের আয়নায়। জন্মেছিল এই উপমহাদেশেরই এক দরিদ্র ঘরে। মা মারা যাওয়ার পর বেঁচে থাকার দায়ে, ক্ষুধার নির্মম বাস্তবতায় ইকবালের বাবা তাকে বিক্রি করে দিলেন মাত্র ৮ ডলার বা ৮০০ রুপিতে—একটা কার্পেট বয়ন কারখানায়।
ইকবালের বয়স তখন মাত্র আট। এক কোমল বয়স, যেখানে হাতের মুঠোয় থাকা উচিত পেন্সিল আর খাতা, সেখানে তার হাতে তুলে দেওয়া হলো নকশার সুতা আর জালের কাঠি। কারখানাটি ছিল কোনো শিল্পভবন নয়, বরং শিশুদের জন্য গড়া এক নরকপুরী। দিনে ১৭ ঘন্টা কাজ, সপ্তাহে ১২০ ঘন্টা। যেন পালিয়ে না যায়, পায়ে পরিয়ে দেওয়া হতো লোহার শিকল। এই ছিল ইকবালের প্রথম পৃথিবী।
দশ বছর বয়সে সে প্রথম পালিয়ে যায়। কিন্তু মুক্তি তার জন্য তখনো কল্পনা মাত্র। তিন দিন পর আবার ধরা পড়ে, আবার বিক্রি হয়ে যায়—এইবার ১০ ডলারে। শ্রম আরও বেড়ে দাঁড়ায় সপ্তাহে ১৪০ ঘণ্টায়! পরিশ্রমের হিসাব যেন শুধু সময় নয়, জীবন খেয়ে নেওয়ার উপাখ্যান।
অবশেষে একদিন, সিনেমার মতো সাহসিকতায়, ইকবাল পালায়—গলির পাশের ড্রেন দিয়ে, দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে, মানুষের অমানবিকতা ভেদ করে। আশ্রয় নেয় একটি এতিমখানায়, যেখানে তার পথের দিশারি হয়ে ওঠেন হাফেজ ইব্রাহিম। তিনি তাকে ভর্তি করেন স্থানীয় একটি স্কুলে। সেই স্কুলে, যেখানে অন্যেরা পাঁচ বছরে শেষ করে প্রাইমারি শিক্ষা, ইকবাল তা শেষ করে মাত্র দুই বছরে। শুধু মেধা নয়, ছিল আগুনের মতো তীব্র এক লক্ষ্য—শিশুদের মুক্তির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করা।
এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই সে যুক্ত হয় Bonded Labour Liberation Front (BLLF)-এর সঙ্গে।
এই সংগঠনের ছায়ায় দাঁড়িয়ে, মাত্র এক কিশোর—ইকবাল মাসিহ—মুক্ত করে প্রায় ৩০০০ শিশু দাসকে।
তাঁর সংগ্রামের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসে ১৯৯৪ সালে, যখন বোস্টনে তাকে দেওয়া হয় Reebok Human Rights Award। এই অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে ইকবাল বলেছিলেন— “আব্রাহাম লিংকন আমেরিকায় দাসত্ব বিলুপ্ত করেছিলেন। আমি চাই, সারা পৃথিবীতে কোনো শিশু যেন আর কারখানায় না থাকে, সব শিশু যেন স্কুলে যেতে পারে। কাজের যন্ত্রণা যে করে, সেই বোঝে। এই কষ্ট বোঝার জন্য কোনো চোখ নেই এই দুনিয়ার।”
ইকবাল ছিলেন আমাদের উপমহাদেশের গ্রীটা থানবার্গ। যে শিশু দাসত্বের বিরুদ্ধে একাই আন্দোলনের সূচনা করে, যে নিজের ভাঙা শৈশবকে ঢাল বানিয়ে দাঁড়ায় শক্তিশালী মাফিয়া সিন্ডিকেটের বিপরীতে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যের ইতিহাস বড় নির্মম।
১৯৯৫ সালে, বোস্টন থেকে ফিরে আসার কয়েক মাসের মাথায়, পাকিস্তানের লাহোর শহরের উপকণ্ঠে, এক বিকেলের রক্তাক্ত মাটিতে পড়ে থাকে ইকবালের নিথর দেহ।
কার্পেট মাফিয়ারা তাকে গু*লি করে হত্যা করে। বয়স তখন মাত্র বারো।
বারো বছর বয়সে যার হাতে ছিল শিশু মুক্তির মানচিত্র, যার চোখে ছিল স্বপ্নে আঁকা বিদ্যালয়, যার জীবনে ছিল হিরো না হয়ে হিরো বানানোর মিশন—সেই ইকবাল মাসিহকে আজ কয়জন চেনে?
২০০৯ সালে United States Labour Department প্রতিষ্ঠা করে The Iqbal Masih Award, যাতে তাঁর স্মৃতি আর সংগ্রাম হারিয়ে না যায়।
এমন এক সময়ে আমরা বেঁচে আছি, যখন এক মিনিটের নাচ, একটা ছক্কা, এক মুহূর্তের বিনোদন ভাইরাল হয়। অথচ এমন একটি জীবন, যা হাজারো শিশুর মুক্তির পথ দেখিয়েছে, হারিয়ে যায় নীরবতার ধুলায়। যদি আজ ইকবাল বেঁচে থাকত, তার বয়স হতো প্রায় চল্লিশ।
হয়তো চল্লিশ লক্ষ শিশুর চোখে সে জ্বালিয়ে দিত আলোর প্রদীপ।
কিন্তু সে নেই।
তবু তার স্বপ্ন, তার ভাষণ, তার পদক্ষেপ আমাদের পথে রয়ে গেছে।
শ্রদ্ধা, ইকবাল মাসিহ।
একটি শিশু, একটি বিপ্লব, একটি জ্যোতির্ময় নাম—যে আমাদের শিখিয়ে গেছে, কীভাবে জীবন দিয়ে জীবন বাঁচাতে হয়।
Hats off to you, The Little Hero

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট