
মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ আমিন কক্সবাজার
কক্সবাজারেররোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন শরণার্থীরা। এতে দূরের আদালতে যাতায়াতের ভোগান্তি ও ক্যাম্প পার হওয়ার প্রতিবন্ধকতা অনেকটাই কমবে। শুধু রোহিঙ্গা নাগরিকরা নন, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার বাসিন্দারাও এই সুবিধা পাবেন। বিচার ব্যবস্থা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে নেওয়া এ উদ্যোগে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি ও ঝুঁকি কমার পাশাপাশি দ্রুত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়বে।
অপহরণের ঘটনায় করা এক মামলায় নারী ও শিশু আদালতের ভার্চুয়াল শুনানির মধ্যদিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও কক্সবাজার-টেকনাফের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিচারপ্রাপ্তি আরও সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর করতে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২ এ (পশ্চিম)- সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েস, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঞ্জুরুল হোসেন, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া, জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা অভিজিৎ চৌধুরী এই ভার্চুয়াল কোর্ট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় রোহিঙ্গা বিচারপ্রার্থীরা এবং ইউএনএইচসিআর ও ব্লাস্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্গম এলাকা থেকে আদালতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থীদের যে ভোগান্তি ও ঝুঁকি, ভার্চুয়াল শুনানি মাধ্যমে তা অনেকটাই কমানো সম্ভব। বর্তমান আইন সংশোধন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও মনে করেছেন তারা।
তাদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় বিচারপ্রার্থীদের আদালতে যাতায়াতের দীর্ঘপথ, চেকপোস্টের বিলম্ব এবং চলাচলের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের আদালতে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তাও কিছু ক্ষেত্রে কমবে।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপদ ডিজিটাল অবকাঠামো এবং বিচারিক কার্যক্রমের গোপনীয়তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ভার্চুয়াল শুনানির কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য বিচারক, আইনজীবী ও আদালত কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপদ ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করা এবং বিচারিক কার্যক্রমের গোপনীয়তা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা জরুরি। ধাপে ধাপে ই-জুডিসিয়ারি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ বিচারপ্রাপ্তির বিদ্যমান বাধা কমাতে এবং বিচারসেবা আরও সহজলভ্য করতে সহায়তা করতে পারে।’
তিনি বলেন, ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে দেশের আদালতগুলো কার্যত বন্ধ হয়ে গেলে বিচারিক কার্যক্রম সচল রাখার জন্য সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে সরকার তথ্যপ্রযুক্তি আইন প্রণয়ন করে। পরে এই আইনের ৫ ধারার অধীনে সুপ্রিম কোর্ট একটি প্র্যাকটিস ডিরেকশন জারি করে। এর মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগ অধস্তন আদালতগুলোর ভার্চুয়াল বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি ও পরিবর্তন করতে পারে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই এ বিষয়ে একটি নতুন প্র্যাকটিস ডিরেকশন জারি করা হয়েছে।