বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
সাতক্ষীরায় অনলাইন সাইবার বুলিং ও সহিংসতা প্রতিরোধে অংশীজনদের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত গ্রামীণ যোগাযোগ উন্নয়নে নতুন ডাটাবেজ তৈরি করছে এলজিইডি দিনাজপুরে কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও অধিকার রক্ষা ক্যাম্পেইন সুমাইয়া হত্যার ঘটনায় ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা: আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সুমাইয়ার বাবা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ঘটনাস্থলেই নিহত ১ নরসিংদীতে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ‘ওয়েভ’-এর মানববন্ধন ও আলোচনা সভা শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রতিবন্ধী ৩ ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রী সমাজ পরিবর্তনের আশা জাগাচ্ছেন : মির্জা ফখরুল প্লাস্টিকের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে দিনাজপুরের ঐতিহ্য

কেরাণীগঞ্জে কিশোরীকে গলা কেটে হত্যার ২৪ ঘন্টায় ঘাতককে গ্রেফতার করছে পিবিআই

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

কেরাণীগঞ্জে কিশোরীকে গলা কেটে হত্যার ২৪ ঘন্টায় ঘাতককে গ্রেফতার করছে পিবিআই

আর কে রুবেল

কেরাণীগঞ্জে কিশোরী মোসাঃ তানজিলাকে গলা কেটে হত্যার ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারী মেঃ রানা হাওলাদারকে গ্রেফতারসহ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা। ২৯/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার দেওয়া তথ্য মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু, ডিসিড এর ব্যবহৃত স্মার্টফোন এবং অলংকার উদ্ধার করা হয়।

গত ২৭/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২.০০ টায় ডিসিড মোসাঃ তানজিলা (১৭) পিতা-মৃত হাবিব, মাতা-মোসঃ নাসলিমা বেগম, বাঘের, থানা- দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, জেলা-ঢাকা, নিজ বাড়ী থেকে বের হয়ে কেরাণীগঞ্জের বাঘের এ তার খালার বাসায় গিয়ে দুপুরের খাবার খায়। সেখান থেকে বিকাল ০৪.০০ ঘটিকায় নিজ বাড়ীর উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। ডিসিড এর পরিবার খোঁজা-খুঁজির এক পর্যায়ে ২৮/০৭/২০২৬ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১০.০৫ ঘটিকায় ডিসিজড এর মা জানতে পারেন যে, কেরাণীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মদিনানগর মাদরাসা ও মসজিদের পশ্চিম পাশে জনৈক মনির হাজির প্লটের মধ্যে গলাকাটা অবস্থায় একটি মেয়ের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। সংবাদ পেয়ে ডিসিজড এর মা সেখানে গিয়ে ডিসিড তানজিলার মৃতদেহ সনাক্ত করেন। কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতসহ মৃতদেহের ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এই ঘটনায় নিহতের মা মোসাঃ নাসলিমা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা নং-৭৭, তারিখ-২৯/০৭/২০২৬খ্রিঃ ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। ২৯/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ পিবিআই ঢাকা জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এসআই (নিঃ) মোঃ সাইদুল হককে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ করা হয়।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল এর সার্বিক দিক-নির্দেশনায় পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদ, পিপিএম এর তত্ত্বাবধানে পিবিআই ঢাকা জেলা টিম তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে সনাক্ত করে আসামী মোঃ রানা হাওলাদার (৩০), পিতা- মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মাতা-আকলিমা বেগম, সাং-চিকনিকান্দি, থানা- গলাচিপা, জেলা-পটুয়াখালী, বর্তমান ঠিকানা-রাজেন্দ্রপুর খালপার, জনৈক খায়ের সরকারের বাড়ীর ভাড়াটিয়া, থানা- দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, জেলা-ঢাকা’কে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে ২৯/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ ভোর রাত ০৩.৩০ ঘটিকায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ রানা হাওলাদার এর দেওয়া তথ্য মতে হত্যা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত চাকু, ডিসিড এর ব্যবহৃত ২টি স্মার্টফোন এবং ডিসিজড এর ব্যবহৃত অলংকার উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী মোঃ রানা হাওলাদার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

পিবিআই এর তদন্তে উদ্ধারকৃত আলামত এবং আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ রানা হাওলাদার কেরাণীগঞ্জ এলাকায় অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। ডিসিড মোসাঃ তানজিলার সাথে তার গত ৬/৭ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ডিসিড তানজিলা আসামী রানা’র কাছে ৩০ হাজার ঢাকা চেয়েছিল কিন্তু রানা সেটা যোগাড় করতে পারে নাই। এই টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। গত ২৭/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ বিকালে গ্রেফতারকৃত মোঃ রানা হাওলাদার তার নিজস্ব অটোরিক্সাতে করে ভিকটিম মোসাঃ তানজিলাকে ঘুরতে নিয়ে যায়। কেরাণীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মদিনানগর মাদরাসা ও মসজিদের পশ্চিম পাশে শরিফ ফুড পার্কের অপর পাশে অবস্থানকালে তাদের মধ্যে অনেক ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে রাগে রানা তানজিলাকে গলা চেপে ধরে এবং মাটিতে ফেলে তার সাথে থাকা ফল কাটা চাকু দিয়ে ভিকটিমের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে ভিকটিমের সাথে থাকা দুইটি স্মার্টফোন, একটি রূপার চেইন এবং একটি রূপার ব্রেসলেট নিয়ে আসামী মোঃ রানা হাওলাদার মৃতদেহ ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে আসামী মোঃ রানা হাওলাদার ডিসিজড এর ব্যবহৃত দুইটি স্মার্টফোন তার বাসার পাশে খড়ের গাদায় লুকিয়ে রাখে এবং তিসিজড এর ব্যবহৃত রূপার চেইন ও ব্রেসলেট নিজের কাছে রেখে দেয়। পিবিআই ঢাকা জেলা টিম আসামীর দখল হতে এসব আলামত উদ্ধার করে জব্দ করে।

এ বিষয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব এম, এন, মোর্শেদ, পিপিএম বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির পরপরই পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি অধিগ্রহণ করে। নিরলস তদন্তের মাধ্যমে আমরা ঘটনার মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত আসামীকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews