সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন

বনদস্যুদের হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ৫ জন আহত

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

বনদস্যুদের হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ৫ জন আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার 

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জে বনভূমি দখলদারদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার জেরে সংঘবদ্ধ বনখেকো চক্রের নৃশংস হাম’লায় র’ক্তাক্ত হয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন বনকর্মী। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গত ২৫ জুলাই সমিতিপাড়া এলাকায় সৃজিত বনভূমি জবরদখল করে নির্মিত একটি অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদ করে বন বিভাগ। একই অভিযানের ধারাবাহিকতায় শিয়াপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় ধ্বংসে ব্যবহৃত কুখ্যাত “মোক্তার মেম্বার” এর একটি ডাম্পট্রাক জব্দ করা হয়। এসব অভিযানে বনভূমি দখলকারী ও পাহাড়খেকো চক্রের অবৈধ কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের আঘাত লাগে।  আজ ২৭ জুলাই সকালে পানেরছড়া রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা আরেকটি পানের বরজ উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া বনকর্মীদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে অতর্কিত হামলা চালায় দখলদার চক্র।

হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন— শরিফুল আলম, ফরেস্ট রেঞ্জার  পানেরছড়া। হুমায়ুন কবির, ফরেস্ট গার্ড সাইদুল ইসলাম, বাগান মালি মোঃ সাজিদ, বাগান মালি, মিজানুর রহমান, ইআরটি সদস্য। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে বনভূমি রক্ষা ও বন আইন বাস্তবায়নে নিয়োজিত বনকর্মীদের ওপর এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা কেবল বন বিভাগের ওপর নয়, রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসন ও আইনের শাসনের ওপর প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। যদি বনভূমি দখলদার, পাহাড়খেকো ও বনখেকো চক্র এভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়েও পার পেয়ে যায়, তবে তা বন অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলবে এবং বন সংরক্ষণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) এ বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত সকল সন্ত্রাসী ও তাদের মদদদাতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে। পাশাপাশি বনকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বনভূমি দখলদারদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বনভূমি রাষ্ট্রের সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় নিয়োজিত বনকর্মীদের ওপর হামলা মানে রাষ্ট্রের ওপর হামলা। বনখেকোদের এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই বলে মনে করেন, কক্সবাজারের একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, শুধু পানের ছড়া নয়, পুরো কক্সবাজারের বনভূমি ও বনাঞ্চল এখন ভূমিদস্যুদের টার্গেটে পরিনত হয়েছে। যেখানে অভিযোগ পাচ্ছি সেখানে অভিযান চালাচ্ছি, সেখানেই বাঁধা প্রাপ্ত হচ্ছি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের যৌথ অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগছাড়া বন ও বনভূমির কোন নিরাপত্তা নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews