সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
কালিহাতীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময় সভা বাউফলে প্রধানমন্ত্রীর ছবির উপর অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ লেখার অভিযোগ ঘোড়াঘাটে হারপেস ইনফেকশন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সাইন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং প্রথা বিলুপ্ত ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রাজপথে নামার আলটিমেটাম অসুস্থ ও অসহায় পরিবারের  পাশে দাঁড়ানোর   আহ্বান, এমপি কাজলের ! হাটহাজারীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, কমিউনিটি সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা !  নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও পুনঃতফসিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন শেরপুরে জোর পূর্বক জমি দখলের চেষ্টা আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

মেধা- শ্রম আর রেমিট্যান্সের নোয়াখালীর অপারঃ সও্বেও কাঙ্খিত আধুনিকায়নের অভাব।

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

মেধা- শ্রম আর রেমিট্যান্সের নোয়াখালীর অপারঃ সও্বেও কাঙ্খিত আধুনিকায়নের অভাব।

 

আবুল কালাম আজাদ,চাটখিল :

 

ইতিহাসে ও অর্থনীতিতে নোয়াখালী বাংলাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধ একটি জেলা। এ অঞ্চলের মানুষের পরিশ্রম, মেধা এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রেখে চলেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে আমাদের প্রিয় জেলাটি এখনো অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারি ও স্থানীয় উদ্যোগের সমন্বয়ে নোয়াখালীকে ইউরোপের উন্নত শহরগুলোর মতো একটি আধুনিক, দক্ষ ও স্বনির্ভর জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জেলার প্রতিটি নাগরিকের সুচিকিৎসা, মানসম্মত শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আমি “দি রয়েল নোয়াখালী কমিউনিটি ক্লাব” প্রতিষ্ঠার একটি রূপরেখা ও প্রস্তাবনা আপনার সদয় বিবেচনার জন্য পেশ করছি। সংগঠনের নেতৃত্ব ও পরিচালনা: এই ক্লাবটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক একটি প্ল্যাটফর্ম হবে। নোয়াখালী জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও সঠিক দিকনির্দেশনার জন্য জেলার সম্মানিত সংসদ সদস্যগণ যৌথভাবে এই ক্লাবের অভিভাবক ও পরিচালনার মূল দায়িত্বে থাকবেন (যদি কোন সরকারি বিধি নিষেধ না থাকে )।  তহবিল ও অর্থায়ন পদ্ধতি: ক্লাবের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কোনো একক অনুদান বা সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে, নোয়াখালীর প্রতিটি নাগরিকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি কেন্দ্রীয় ফান্ড বা তহবিল গঠন করা হবে। জেলার ভেতরে থাকা সক্ষম নাগরিক এবং দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী ভাই-বোনদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবদান যুক্ত হয়ে এই ফান্ড একটি বিশাল অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে। পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন ক্ষেত্রসমূহ: এই ফান্ডের অর্থ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে নিম্নলিখিত জনকল্যাণমূলক ও বাণিজ্যিক খাতে ব্যবহার করা হবে: ১. স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তা: নোয়াখালীর প্রতিটি থানায় একটি করে ‘মডেল ফার্মেসী’ প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত ওষুধ পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রতিটি থানায় সার্বক্ষণিক সেবার জন্য স্বল্প খরচে ন্যূনতম একটি করে আধুনিক ‘অ্যাম্বুলেন্স’ নিশ্চিত করা হবে। আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা যারা জীবনের শেষ বয়সে দেশে ফিরে সঠিক চিকিৎসা পান না, তাদেরসহ জেলার সকল নাগরিকের সুচিকিৎসার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হবে এই ফান্ড থেকে। ২. দক্ষতা ও কারিগরি শিক্ষা: বেকারত্ব দূরীকরণে প্রতিটি থানায় একটি করে সর্বাধুনিক ‘কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ (ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট) গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম আধুনিক প্রযুক্ত ও কাজের দক্ষতা অর্জন করে দেশে-বিদেশে নিজেদের স্বাবলম্বী করতে পারবে। ৩. সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন: সমাজের অসহায় ও প্রবীণ মানুষদের শেষ জীবনের আশ্রয় ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য প্রতিটি থানায় একটি করে আধুনিক ‘বৃদ্ধাশ্রম’ বা প্রবীণ নিবাস গড়ে তোলা হবে। ৪. পর্যটন শিল্পের আধুনিকায়ন: নোয়াখালীর বিদ্যমান পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ঢেলে সাজানো হবে, যাতে অন্যান্য জেলার পর্যটকরা সম্পূর্ণ নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এ অঞ্চলে ভ্রমণ করতে পারেন। ৫. বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থান: ফান্ডের একটি অংশ দিয়ে বিভিন্ন লাভজনক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালু করা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে সেই ব্যবসার লভ্যাংশ দিয়ে ক্লাবের দাতব্য ও সেবামূলক কাজের স্থায়ী খরচ মেটানো সম্ভব হবে। ৬. ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি: জেলার সঠিক পরিকল্পনা ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার সুবিধার্থে নোয়াখালী জেলার প্রতিটি নাগরিকের নাম, স্থায়ী ঠিকানাসহ একটি সেন্ট্রাল ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলকে যুক্ত করার আহ্বান: যেহেতু ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলা একসময় বৃহত্তর নোয়াখালীর অংশ ছিল, তাই সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে আমরা তাদেরও এই মহৎ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাবো। তারা যদি আমাদের সাথে যুক্ত হতে সম্মত হয়, তবে এই সংগঠনের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং তখন এর নাম হবে “দি রয়েল কমিউনিটি ক্লাব”। অথবা এই ধরণের লক্ষ্য নিয়ে যদি পূর্বে থেকেই কোনো প্ল্যাটফর্ম কার্যকর থাকে, তবে সেটির মাধ্যমেই এই প্রস্তাবনাগুলোর বাস্তবায়ন শুরু করা যেতে পারে। মাননীয় সংসদ সদস্যগণের সুদূরপ্রসারী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ একত্রিত হলে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন সম্ভব। আশা করি, নোয়াখালীর মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এই প্রস্তাবটি বিবেচনা করে ক্লাব গঠনে আপনারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews