সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
সরকারি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং প্রথা বিলুপ্ত ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রাজপথে নামার আলটিমেটাম অসুস্থ ও অসহায় পরিবারের  পাশে দাঁড়ানোর   আহ্বান, এমপি কাজলের ! হাটহাজারীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, কমিউনিটি সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা !  নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও পুনঃতফসিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন শেরপুরে জোর পূর্বক জমি দখলের চেষ্টা আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ ও শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ‘ছায়াসংসদ’র আত্মপ্রকাশ ও ১০ দফা দাবি ঘোষণা রাজশাহী বাগমারায়,অটোরিকশা ওট্রাকের মুখো মুখি সংঘর্ষ, আহত ৬ জন

প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়ন নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বদলি ও পদায়ন কমিটিতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিধান বাতিল করে তার পরিবর্তে বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় কমিটির গঠনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে সাতটি নতুন শর্ত সংযোজন করা হয়েছে। এর আগে গত ২১ জুন মন্ত্রণালয় শিক্ষক বদলি ও পদায়নের নতুন নীতিমালা চালু করে। উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় এই চার স্তরের কমিটির মাধ্যমে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির বিধান করা হয়। তবে অনলাইন পদ্ধতির পরিবর্তে সনাতন ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া এবং কমিটিতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সমালোচনার অন্যতম কারণ ছিল, ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, তা নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়নি। এতে বদলি প্রক্রিয়ায় তদবির ও অযাচিত প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়। কমিটিতে এলো পরিবর্তন সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বদলি কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুজন ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’র পরিবর্তে দুজন বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি সদস্য হিসেবে থাকবেন। বিভাগীয় কমিটির সভাপতি থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার, জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা বা থানা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এ ছাড়া জাতীয় কমিটির সভাপতির পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় কমিটির সভাপতি হবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি)। সদস্য থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিদ্যালয়) এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি অ্যান্ড অপারেশন)। আগের নীতিমালায় জাতীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব। বদলিতে যুক্ত হলো সাত নতুন শর্ত সংশোধিত নীতিমালায় শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত সাতটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে— ১. চাকরিতে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ না হলে কোনো সহকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলির জন্য বিবেচিত হবেন না। এছাড়া বদলির পর তিন বছর পূর্ণ না হলে পুনরায় বদলির আবেদন করা যাবে না। ২. শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করা যাবে। ৩. সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের আবেদন ছাড়া তাকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে না। তবে জনস্বার্থ বা প্রশাসনিক প্রয়োজন হলে জাতীয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে বদলি করা যাবে। ৪. যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচজন বা তার কম শিক্ষক কর্মরত আছেন অথবা শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষককে বদলি করা যাবে না। ৫. একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক শিক্ষক বদলির আবেদন করলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অগ্রাধিকার পাবেন। ৬. একটি বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিনজন শিক্ষককে সংযুক্তি (অ্যাটাচমেন্ট) ভিত্তিতে পদায়ন করা যাবে। ৭. সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নারী শিক্ষকদের স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর কর্মস্থল/স্থায়ী ঠিকানার নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগের বিধান বহাল সংশোধিত নীতিমালায় আগের মতোই উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় কমিটির মাধ্যমে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির বিধান বহাল রাখা হয়েছে। একই উপজেলা, জেলা বা বিভাগের মধ্যে বদলির আদেশ সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে জারি হবে। আর আন্তঃবিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন এলাকার বদলির আবেদন জাতীয় কমিটি নিষ্পত্তি করবে। এ ছাড়া নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পদায়নের দায়িত্ব জেলা কমিটির ওপরই বহাল রাখা হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের মতে, সংশোধিত নীতিমালার মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বাস্তবসম্মত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এর কার্যকর বাস্তবায়নই শেষ পর্যন্ত নীতিমালার সফলতা নির্ধারণ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews