
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের প্রচারণা শুরু করলো ভারত !
তরিকুল ইসলাম, কুটনৈতিক :
মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) অস্থায়ী সদস্যপদের প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে ভারত। এ সময় বৈশ্বিক দক্ষিণের (গ্লোবাল সাউথ) দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নিউইয়র্কে প্রচারণা শুরু করে দেশটি। প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমানে বিশ্ব নজিরবিহীন সংঘাত, সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও সক্ষম জাতিসংঘ গড়ে তোলা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, ভারতের লক্ষ্য এমন একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তোলা, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর গুরুত্ব পাবে, সন্ত্রাসবাদ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হবে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। জয়শঙ্কর জানান, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভারত ‘শান্তি’ নামে একটি নীতিগত কাঠামো অনুসরণ করবে। এই ধারণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিধি-বিধানের প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পরিক আস্থা এবং সম্মিলিত অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। ভারতের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে প্রায় তিন লাখ সদস্য পাঠিয়েছে। বর্তমানে ১০টি সক্রিয় মিশনে চার হাজার তিনশ জনের বেশি ভারতীয় শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার, দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়ন, সামুদ্রিক বাণিজ্য সুরক্ষা এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, উন্নয়ন অংশীদারত্ব এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর খাদ্য, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ভারতের বিভিন্ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক কল্যাণে দেশটির প্রতিশ্রুতির প্রমাণ। বক্তব্যের শেষে জয়শঙ্কর জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ভারতের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের উপস্থিতি সংস্থাটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করবে এবং একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গঠনে অবদান রাখবে।