বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
দিনাজপুরে হোটেল থেকে ৪ ডাকাত গ্রেফতার, পিকআপ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ! ফুটপাত-সড়ক দখলমুক্ত করতে কালীগঞ্জে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান ! কর্মী সংকটে মোবারকগঞ্জ চিনিকল ! নক আউট পর্বে ৪০ বছরের খরা কাটিয়ে জয় নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো সিন্দুকের চেয়ে সাইবার নিরাপত্তা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী ২০০ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধার: সোনারগাঁয়ে যুবক গ্রেপ্তার ! দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে দুর্নীতি সিন্ডিকেটের বদলি নাটক গোবিন্দগঞ্জে সাপমারা ইউপিতে একক প্রার্থী হওয়ায় চেয়ারম্যান হিসেবে গেজেটভুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ গোবিন্দগঞ্জে ১৭১তম হুল দিবসের সমাবেশে বক্তারা ‎সাঁওতালরা আজও অধিকার থেকে বঞ্চিত ​হোটেল শ্রমিকনেতা বাদশা মিয়ার ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত !

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে দুর্নীতি সিন্ডিকেটের বদলি নাটক

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে দুর্নীতি সিন্ডিকেটের বদলি নাটক

 

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর :

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে জেঁকে বসা এক প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ চক্রের ৩ সদস্যকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। তবে এই বদলিকে কেন্দ্র করে বোর্ডের ভেতরে ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। সংক্ষুব্ধ মহল বলছেন, কোটি টাকার দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ থাকার পরও স্রেফ বদলি করা যেন “ক্ষেতের ফসল খেয়ে শেষ করার দায়ে গরুকে শাস্তি না দিয়ে অন্য ক্ষেতে পাঠিয়ে দেওয়ার শামিল!” গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে (স্মারক নং-৩৭.১৫.০০০০.০০১.০৫.০০১.০৮.৩০০) সচিব প্রফেসর নূর মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত বদলি আদেশের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটের প্রধান হোতা সহকারী সচিব মোছাঃ লাবণ্য প্রভাকে হিসাব বিভাগে, সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক মোঃ আবেদ আলী এবং শাহ মোঃ ফয়জুল ইসলাম (আনিস)কে প্রশাসন বিভাগে বদলি করা হয়। এই ৩ জনের বদলির আদেশ ও অপরাধের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বোর্ডের সচিব প্রফেসর নূর মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অফিস নিয়ম অনুযায়ী তাদের বদলি করা হয়েছে। কি অপরাধে বা কি কারণে তাদের বদলি করা হলো তা জানতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এটি অফিসের পার্সোনাল বিষয়, এ বিষয়ে জানতে হলে যাদের বদলি করা হয়েছে তাদের সঙ্গে কথা বলুন কি কারনে বদলি করা হয়েছে, তারা বলবে। সচিবের এই রহস্যজনক বক্তব্যের পর শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানান, এই চক্রটি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য ও হুইপ ইকবালুর রহিম এবং সাবেক নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষা বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন, তাদের উপরে কথা বলার বা সাহস দেখানোর মতো কেউ ছিল না। বোর্ডের অধীনে থাকা ৪,০০০ স্কুল পরিদর্শনে গেলেই আবেদ ও আনিস প্রতি স্কুল থেকে ২০ হাজার করে টাকা নিতেন। ডক্টর ইউনূসের আমলে নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ৮৬টি স্কুলকে প্রতিটিতে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ঠাকুরগাঁওয়ের মাদার তেরেজা স্কুলটি বোর্ড মিটিংয়ে অনুমোদন ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। এছাড়া সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে আবেদ আলী দীর্ঘদিন ধরে এস এ ব্রিক্স নামে একটি ইটভাটা পরিচালনা করছেন। এই চক্রটি বোর্ডের অফিশিয়াল ও গোপনীয় কাজ দিনাজপুরের মডার্ন মোড়ের একটি কম্পিটারের দোকান থেকে সম্পন্ন করে বোর্ডের গোপনীয়তা ভঙ্গ করে আসছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবেদ আলী নির্লজ্জের মতো মন্তব্য করে বলেন, মিষ্টি খাওয়ার জন্য কেউ কিছু দিলে আমি তা গ্রহণ করি। সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তড়িঘড়ি করে তাদের বদলি করা হয়। তবে বদলি হওয়ার পরেও এই চক্রটি পুনরায় তাদের পুরনো লাভজনক পদ ফিরে পেতে এবং সদ্য যোগদান করা নতুন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকেও ম্যানেজ করার জোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে। বোর্ড সংশ্লিষ্ট ও সাধারণ জনগণ অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যপারে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ জানান, আমি সদ্য যোগদান করেছি, বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে দেখছি, কেউ শিক্ষাবোর্ড নিতিমালা ভঙ্গ করলে নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews