নরসিংদীর ভেলানগর ও ইটাখোলা মোড়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মহোৎসব, ফোনে মেলে না বিআরটিএ-কে!
ফালু মিয়া, নরসিংদীর :
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ভেলানগর এবং ইটাখোলা মোড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চরমে পৌঁছেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে যাত্রীদের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে চালকরা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া পকেটস্থ করছেন। সবচেয়ে আশশ্চর্যের বিষয় হলো, ভেলানগর মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ এবং ইটাখোলা মোড়ে খোদ পুলিশ ফাঁড়ির নাকের ডগাতেই চলছে এই প্রকাশ্য ‘পকেট কাটা’। প্রশাসনের এত কাছাকাছি থেকেও সাধারণ যাত্রীরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। আজ ভেলানগর মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষারত এক ক্ষুব্ধ পথচারী আক্ষেপ করে বলেন, “নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সিএনজি চালকরা যে যার মতো ভাড়া হাঁকাচ্ছে। এটা আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের ওপর স্পষ্ট জুলুম। কিন্তু আমরা কার কাছে অভিযোগ করব? দেখার যেন কেউ নেই।” ভাড়া সংক্রান্ত এই অনিয়মের তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানাতে কয়েকজন ভুক্তভোগী যাত্রী বিআরটিএ (BRTA) নরসিংদী সার্কেলের দাপ্তরিক ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, বারবার রিং হওয়া সত্ত্বেও বিআরটিএ অফিস থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে সাধারণ যাত্রীদের ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। একই চিত্র দেখা গেছে মহাসড়কের ইটাখোলা মোড়েও। সেখানে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক রুটের সিএনজি চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে। পাশেই পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও চালকদের এই মনগড়া ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। ইটাখোলায় আটকে পড়া এক যাত্রী বলেন, “পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই যদি আমাদের এভাবে জিম্মি হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? আমরা এই নৈরাজ্য বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জরুরি সু-দৃষ্টি কামনা করছি।” সংশ্লিষ্টদের মতে, সাপ্তাহিক ছুটির আগের দিন এই দুই মোড়ে ঢাকাগামী ও অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি। এই সুযোগকে পুঁজি করে সিএনজি চালকদের একটি সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে। অবিলম্বে মহাসড়কের এই পয়েন্টগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করে এই ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন নরসিংদীর সচেতন মহল।