
খোকসায় নিত্য বাবুর ভেজাল গুড়ের কারখানায় প্রশাসনের হানা মালিক পলাতক-বারবার অভিযানের পরও বন্ধ হচ্ছে না কারখানা
কুষ্টিয়ার খোকসায় দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল গুড় উৎপাদনের অভিযোগে আলোচিত নিত্য বাবুর কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে অভিযানের খবর পেয়ে কারখানার মালিক ও কর্মচারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) দুপুরে খোকসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনিন জাহান এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।অভিযান চলাকালে পুরো কারখানা তল্লাশি করেও মালিক বা কোনো কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মালিকপক্ষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা বারবার ফোন কেটে দেন বলে জানা গেছে। ফলে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কারখানার মালিক বা সংশ্লিষ্ট কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি এবং কোনো জরিমানা বা কারাদণ্ডও দেওয়া হয়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিত্য বাবুর এই কারখানাটি ভেজাল গুড় উৎপাদনের অভিযোগে এর আগেও একাধিকবার প্রশাসনের নজরে এসেছে। অতীতেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হলেও রহস্যজনকভাবে কিছুদিন পর আবারও আগের মতো কার্যক্রম চালু করা হয়।
ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে-
কোন অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় বারবার অভিযানের পরও বন্ধ হচ্ছে না এই ভেজাল কারখানা? অনুসন্ধানে আরও ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে। বাজারে খাঁটি গুড়ের নামে বিক্রি হওয়া অনেক পণ্যই তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ভেজাল উপাদান দিয়ে। আখের রসের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে চিনি ও গ্লুকোজ সিরাপ। গুড় শক্ত করতে মেশানো হচ্ছে ফিটকিরি ও চুন, আর রঙ উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক রং। শুধু তাই নয়, কোথাও কোথাও চকচকে ভাব আনতে ডালডা ও পাম অয়েল এবং ওজন বাড়াতে চক পাউডার ও মাটি পর্যন্ত মেশানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।চিকিৎসকদের মতে, এসব ভেজাল গুড় মানবদেহের জন্য মারাত্মক হুমকি। নিয়মিত এ ধরনের গুড় খেলে পেটের নানা জটিল রোগ, লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।এ বিষয়ে খোকসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনিন জাহান বলেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালতের খবর পেয়ে মালিকপক্ষ পালিয়ে গেছে। আমরা মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা বারবার ফোন কেটে দেন। তবে প্রশাসনের এই অভিযান চলমান থাকবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে ওঠা এসব ভেজাল কারখানার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।