
পবিত্র রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য শান্তি ও বরকতের বার্তা নিয়ে আসে। সিয়াম সাধনার এই মাসে রোজাদাররা আত্মশুদ্ধি ও ধৈর্যের প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, শত্রুপক্ষ কখনো কখনো এই পবিত্র মাসকেই আক্রমণের জন্য বেছে নিয়েছে। তাদের ধারণা, ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর রোজাদাররা দুর্বল থাকবেন, প্রতিরোধ গড়তে পারবেন না। কিন্তু তারা কি জানেন না, রমজানে মুমিনের ঈমান পৌঁছে যায় চরম শিখরে? তারা কি উপলব্ধি করতে পারে না, রোজা অবস্থায় শাহাদাতের পেয়ালা পান করার মাধুরী কতটা অনির্বচনীয়?
আমাদের ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে দেখুন বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল রমজান মাসেই। সেই দিন রোজাদার সাহাবায়ে কেরাম ক্ষুধা নিয়ে লড়েছিলেন, কিন্তু তাদের ঈমানের দৃঢ়তা শত্রুপক্ষকে পর্যুদস্ত করেছিল। রোজা তাদের দুর্বল করেনি, বরং শক্ত করেছে। তাই যারা মনে করে রমজানে আক্রমণ করলে মুসলমানরা দুর্বল থাকবে, তারা ইতিহাস থেকে কিছুই শেখেনি।
শত্রুরা বোঝে না, রোজা শুধু খাদ্য-পানীয় থেকে বিরত থাকার নাম নয়, রোজা হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সবর করার নাম। এই সবরই একজন মুমিনকে এমন শক্তি দেয় যা দুনিয়ার কোনো ভোগবিলাস দিতে পারে না। আর এই রোজাদার ব্যক্তিই যখন রণাঙ্গনে শহীদ হন, তখন তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে যায়। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘শহীদের প্রতিটি ফোঁটা রক্তের বিনিময়ে তার সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ কল্পনা করুন, সেই শহীদ যদি রোজাদার হন, তবে তাঁর মর্যাদা কতটা উচ্চে পৌঁছে।
আজ যে জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ বাধানো হয়েছে, তারা কি ভুলে গেছে এই জাতি শহীদের জাতি? এই জাতির প্রতিটি ঘর থেকে শহীদের খেতাব পাওয়া সন্তানেরা বেরিয়েছে। ইরানি জাতির বুকের রক্ত আজও উত্তাল, তাদের ঈমান আজও অটল। তারা রমজানকে যেমন ইবাদতের মাস জানে, তেমিন জানে প্রতিরোধের মাস হিসেবেও। কারবালার শিক্ষা তাদের এনে দিয়েছে বাতিলের মুখে মাথা নত না করার শক্তি।
একুশের চেতনার বাংলাদেশ থেকেও আমরা এই বার্তা দিতে চাই রমজানের পবিত্রতা আমাদের কাছে চিরন্তন। আমরা ইবাদত করব, কোরআন তেলাওয়াত করব, তারাবির নামাজ পড়ব। কিন্তু প্রয়োজনে আমরা এ প্রস্তুতিও রাখব যে, অত্যাচারীর মুখে ছোরা মেরে হলেও ইসলামের মর্যাদা রক্ষা করব। শত্রুরা রমজানকে বেছে নিয়ে আমাদের জন্য শাহাদাতের পথ সহজ করে দিয়েছে। আমরা সেই পথে চলতে প্রস্তুত আছি।
আমাদের আহ্বান, এই পবিত্র মাসে বিশ্বের সব মুসলমান এক হয়ে উঠুন। ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন। ইরানি জাতি আজ যে পথে হাঁটছে, সেটা শুধু নিজেদের স্বার্থে নয় পুরো মুসলিম উম্মাহর সম্মান রক্ষার জন্য। তারা রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় অস্ত্র ধরেছে, আমাদের দোয়া তাদের সঙ্গে আছে।
জয় হোক সত্যের, বিজয় হোক ইসলামের।