
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মেঘনা নদীর পাড় দখল করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শিকার হয়েছেন সাধারণ গ্রামবাসী। প্রভাবশালী বালু খেকো চক্রের ছোঁড়া গুলিতে অন্তত ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ রবিবার সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং এলাকায় চলে এই নারকীয় তাণ্ডব।
রক্তাক্ত রণক্ষেত্র চরলাপাং:স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চরলাপাং মৌজার মেঘনা নদীর পাড় কেটে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে বালু তুলে আসছিল। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে, অন্যদিকে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। আজ সকালে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে বালু দস্যুরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ।
আহতদের আর্তচিৎকার: এলোপাথাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হন নুরুল আমিন (৪০), রুপ মিয়া (৪৫), স্বপন মিয়া (৫০), গর্জু মিয়া, ইব্রাহিমসহ অন্তত ১৫-২০ জন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের করিডোরে আহতদের স্বজনদের আর্তচিৎকারে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও জনরোষ:ঘটনার খবর পেয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও সার্কেলসহ পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধ ড্রেজার নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও স্থানীয়দের মনে চাপা ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর দাবি: ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী জানান, “নিজেদের বাপ-দাদার ভিটা আর ফসলি জমি রক্ষার অপরাধে আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। আমরা কি নিজের সম্পদটুকুও রক্ষা করতে পারব না?” তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন