1. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
  2. info@www.bhorerawaj.com : দৈনিক ভোরের আওয়াজ :
জাল আর নৌকাই সম্বল গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের বুকে জেলেদের নিরন্তর জীবনসংগ্রাম  - দৈনিক ভোরের আওয়াজ
বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
কালিহাতীতে ফিলিং স্টেশনে বিক্রি বন্ধ রেখে তেল মজুত, জরিমানা  হাটহাজারীতে সড়কে গেইট স্থাপন নিয়ে বিতর্ক, নিরাপত্তার যুক্তি বিবাদীর! ‎রংপুরে দুঃসাহসিক হামলা: প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার  পাবনা প্রেসক্লাবে সতীর্থদের সাথে প্রাণবন্ত আড্ডা দিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পাবনায় ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে ॥ আক্রান্ত ২৭ শেবন্দী ফুটবল প্রিমিয়ার লীগের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত মেঘনায় ওরশের বিরোধে যুবক নিহত: থানায় হত্যা মামলার এজাহার দাখিল দখলের ধকলে মৃত প্রায় প্রমত্তা করতোয়া– অস্তিত্ব সংকটে বাঙালী দেলোয়ার-সভাপতি, হামিদ-সম্পাদক চন্দনাইশ প্রেস ক্লাবের কার্যকরি পরিষদ গঠন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩

জাল আর নৌকাই সম্বল গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের বুকে জেলেদের নিরন্তর জীবনসংগ্রাম 

আব্দুর মুনতাকিন জুয়েল , গাইবান্ধা 
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
বিস্তীর্ণ জলরাশিআর মাথার ওপর মেঘলা আকাশ। সেই বিশাল জলরাশির বুকে ছোট একটি ডিঙি নৌকায় জাল গুছিয়ে নিচ্ছেন এক জেলেআর অন্যজন লগি ঠেলে নিপুণ হাতে নৌকা সামলাচ্ছেন। এ দৃশ্য গাইবান্ধার ওপর দিয়ে বয়ে চলা প্রমত্ত ব্রহ্মপুত্র নদের। প্রতিদিন ভোর থেকে জীবিকার তাগিদে এভাবেই নদীর বুকে নেমে পড়েন এ অঞ্চলের হাজারো জেলে।

ব্রহ্মপুত্রের বিস্তীর্ণ এই বুকে জেলেদের জীবন যেন প্রতিদিনের এক যুদ্ধ। মাছ ধরাই তাদের আদি পেশাআর এই নদীই তাদের অন্নদাতা। ছোট নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা মাঝনদীতে চলে যান। একজন জাল গোটান বা ফেলেনতো অন্যজন নৌকার হাল ধরেন। সারাদিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলে তাদের এই সংগ্রাম। দূরে দেখা যায় এমন আরও অসংখ্য নৌকাযারা একইভাবে জীবিকার সন্ধানে ব্যস্ত।

সাঘাটার জেলে বলরাম দাস বলেননদীকে ঘিরেই তাদের জীবন-জীবিকা আবর্তিত হলেও সময় এখন অনেকটাই বদলেছে। আগের মতো নদীতে এখন আর রুইকাতলাবোয়ালআইড়সহ দেশি প্রজাতির সুস্বাদু মাছ তেমন একটা পাওয়া যায় না। নদীর নাব্যতা সংকটদূষণঅবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ব্রহ্মপুত্রে মাছের চরম আকাল দেখা দিয়েছে। সারাদিন জাল ফেলেও অনেক সময় পরিবারের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত মাছ মেলে না। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে সারাদিনের সামান্য আয়ে সংসার চালানো তাদের জন্য এখন রীতিমতো কঠিন দায় হয়ে পড়েছে।

ফুলছড়ি ঘাটের এক প্রবীণ জেলে নিতাই চন্দ্র আক্ষেপ করে বলেন, “বাপ-দাদার আমল থেইকা এই নদীতেই মাছ ধরি। আগে একবার জাল ফেললে নৌকা ভইরা যাইতআর এহন সারাদিন ঘুইরাও ইঞ্জিনের তেলের পয়সা ওঠে না। তাও নদী ছাড়া আমাগো আর কোনো উপায় নাই।”

গাইবান্ধা জেলা মৎস্যজীবী সমিতির নেতা নিপেন দাস জানানশুধু মাছ ধরে এখন জীবিকা নির্বাহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেনজেলায় নিবন্ধিত অনেক জেলে থাকলেও সরকারি সহায়তা সবার ভাগ্য জোটে না। বিশেষ করে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারিভাবে যে সহায়তা দেওয়া হয়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।

নদীভাঙন আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে টিকে থাকা এই মানুষগুলোর জীবন যেন ব্রহ্মপুত্রের ঢেউয়ের মতোই উত্থান-পতনে ভরা। তবুও বুকভরা আশা নিয়ে প্রতিদিন তারা নতুন করে জাল ফেলেন নদীতে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাসহজ শর্তে ঋণবিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং জেলেদের জন্য বিশেষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হলে ব্রহ্মপুত্র পাড়ের এই খেটে খাওয়া মানুষগুলোর জীবন কিছুটা হলেও সহজ হতো বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট