
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে ২১ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পাওয়ায় তারা জামানত হারান।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জেএসডির সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রব (তারা প্রতীক) এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া লক্ষ্মীপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদও (লাঙ্গল প্রতীক) জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
লক্ষ্মীপুর-১ আসন এ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— জাতীয় পার্টির মাহমুদুর রহমান মাহমুদ (৪১৪ ভোট), ইসলামী আন্দোলনের জাকির হোসেন পাটওয়ারী (১১,১৫৬ ভোট), এনডিএমের আলমগীর হোসাইন (১০৬ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের কাউছার আলাম (১১৫ ভোট) এবং বাসদের বিল্লাল হোসেন (২০৩ ভোট)।মোট ২ লাখ ৮১ হাজার ৩০২ ভোটারের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৬২ জন। ভোটের হার ছিল ৫৭.৯৩ শতাংশ। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল প্রায় ২০ হাজার ৩৭০ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনএ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জামানত হারান পাঁচজন— গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার (৪২৪ ভোট), নাগরিক ঐক্যের রেজাউল করিম (২৫৩ ভোট), বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির ইব্রাহিম মিয়া (১,৭৮০ ভোট), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ফরহাদ মিয়া (২৮৮ ভোট) এবং ইসলামী আন্দোলনের হেলাল উদ্দিন (৬,৭৭৪ ভোট)।৪ লাখ ৯৪ হাজার ২৬ ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৭০ জন। ভোটের হার ছিল ৬০.১৭ শতাংশ। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩৭ হাজার ১৫৮ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনএ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চারজন জামানত হারান— জাতীয় পার্টির একেএম মহিউদ্দিন (১,৩৩৯ ভোট), ইসলামী আন্দোলনের মো. ইব্রাহিম (৫,০৫১ ভোট), এলডিপির মো. শামছুদ্দিন (৪৮৮ ভোট) এবং এনপিপির সেলিম মাহমুদ (২৮৯ ভোট)।৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭৩ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৭২ হাজার ৪৩০ জন ভোট দেন। ভোটের হার ছিল ৬১.২৯ শতাংশ।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনএ আসনে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জামানত হারান সাতজন— স্বতন্ত্র প্রার্থী আ ন ম মঞ্জুর মোর্শেদ (৩৯৬ ভোট), ইসলামী আন্দোলনের খালেদ সাইফুল্লাহ (২১,১০৩ ভোট), জেএসডির তানিয়া রব (২২,০৪০ ভোট), স্বতন্ত্র নুরুল হুদা চৌধুরী (৪২২ ভোট), বাসদের মিলন কৃষ্ণ মণ্ডল (৪৪০ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের রেদোয়ান উল্লাহ (২৫৯ ভোট) এবং স্বতন্ত্র শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল (৪১১ ভোট)।৪ লাখ ১৮ হাজার ১৫৮ ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৭ জন। ভোটের হার ছিল ৫৭.৬৩ শতাংশ। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩০ হাজার ১২০ ভোট।
ইসির বিধাননির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে কোনো প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।