পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসন ঘিরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আবহ এখন তুঙ্গে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণা থেমে গেছে, কিন্তু রাজনৈতিক উত্তাপ রয়ে গেছে মাঠে-ঘাটে, চায়ের আড্ডায়, ভোটারদের আলোচনায়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই সব প্রার্থীর প্রচারপর্ব শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষা কেবল রায় ঘোষণার।
নির্বাচনী মাঠে গত কয়েক সপ্তাহ ছিল সরব পদচারণায় ভরপুর। গ্রাম থেকে বাজার, পাড়া থেকে ইউনিয়ন-প্রার্থীদের সমর্থকরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছেছেন। পোস্টার, মাইকিং, উঠান বৈঠক আর পথসভায় জমে উঠেছিল প্রচারের শেষ লড়াই। তবে সময়সীমা শেষ হতেই নেমেছে নীরবতা, যেন ঝড়ের আগের স্থিরতা।
এ আসনে দৃশ্যত ত্রিমুখী লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ ফরহাদ হোসেন আজাদ, জামায়াত ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ সফিউল্লাহ্ সুফি এবং বাংলাদেশ জাসদ (মোটরগাড়ি) মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক এমরান আল আমিন, এই তিন প্রার্থীকেই ঘিরে নির্বাচনী সমীকরণ ঘনীভূত। যদিও মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মূল প্রতিযোগিতা আবর্তিত হচ্ছে এই তিন শক্তির মধ্যে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটারদের একাংশ বলছেন, তারা দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ও এলাকার উন্নয়নে বাস্তব অবদানকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাবকেও বিবেচনায় রাখছেন। সব মিলিয়ে বোদা-দেবীগঞ্জ আসনটি পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক কৌতূহলের কেন্দ্রে।
সব হিসাব-নিকাশ থেমে আছে ব্যালটের অপেক্ষায়। এখন দেখার বিষয়, ব্যালটের বাক্সে জমা হওয়া রায় কোন পথে বদলে দেয় পঞ্চগড়-২ আসনের রাজনৈতিক দৃশ্যপট।