প্লাস্টিক ও মেলামাইনের যুগে টিকে থাকতে আধুনিকতার ছোঁয়া দিনাজপুরের মৃৎশিল্পে
প্রকাশিত:
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
প্লাস্টিক ও মেলামাইনের যুগে টিকে থাকতে আধুনিকতার ছোঁয়া দিনাজপুরের মৃৎশিল্পে
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর
আধুনিক প্লাস্টিক, মেলামাইন ও স্টিল সামগ্রীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ঐতিহ্যবাহী পৈতৃক পেশা মৃৎশিল্পে নতুনত্ব আনছেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্তের চণ্ডীপুর গ্রামের কুমারপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। গ্রাহকের চাহিদার কথা মাথায় রেখে সনাতন হাড়ি-পাতিলের পাশাপাশি তৈরি করা হচ্ছে আধুনিক বাসনপত্র, নকশা করা গ্লাস-প্লেট এবং বিশেষ করে মাটির তৈরি কয়েলদানি।
স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বাজারে মাটির তৈরি রান্নার হাঁড়ি-পাতিলের চাহিদা তুলনামূলক কমে গেছে। তাই ঐতিহ্যবাহী এই পেশা টিকিয়ে রাখতে তারা পণ্যের বৈচিত্র্য আনছেন। শৌখিন ও আধুনিক গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে মাটির তৈরি এসব পণ্যে বিভিন্ন রঙের ছোঁয়া দিয়ে চাকচিক্য বাড়ানো হচ্ছে।
গ্রীষ্মকালে লোডশেডিংয়ের কারণে মশার উপদ্রব বাড়ায় কয়েলের ব্যবহারও বাড়ে। সাধারণ প্লেট বা অন্যান্য পাত্রে কয়েল জ্বালালে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বা দ্রুত পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ দিকটি বিবেচনা করে মৃৎশিল্পীরা তৈরি করেছেন বিশেষ নকশার মাটির কয়েলদানি।
ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মাটির তৈরি এসব কয়েলদানির মাঝখানে কয়েল বসানোর স্ট্যান্ড এবং ওপরে ছিদ্রযুক্ত ঢাকনা থাকে। ফলে ফ্যানের বাতাসে কয়েল দ্রুত পুড়ে যায় না এবং ঢাকনার ছিদ্র দিয়ে শুধু ধোঁয়া বের হয়। এছাড়া ছাই পাত্রের ভেতরেই জমা থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে না এবং এটি বেশ সাশ্রয়ী (বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ টাকা)।
মৃৎশিল্পী যোগেশ রায়, আরতি বালা, বিমল পাল ও অনিক পাল জানান, প্লাস্টিকের পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে হলে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা জরুরি। বর্তমানে নতুন প্রজন্মের ক্রেতারা শখ করে মাটির এসব আধুনিক জিনিসপত্র কিনছেন। মৃৎশিল্পীরা আশা করছেন, এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।