মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
জলঢাকায় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যা শিশু দিবস ২০২৬ উদযাপিত বিসিএসআইআর রাজশাহী গবেষণাগারে বার্ষিক কর্মশালা ও অংশীজন মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠি চাঁদা না দেওয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুল মেরে রক্তাক্ত করল প্রবাসীর পিতা-মাতাকে জনবল সংকট ও যন্ত্রপাতির অচলতায় সেবা ব্যাহত, দুর্ভোগে রোগীরা আব্দুল মজিদ সাহেবের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৪শত রোগী শেরপুরে বিশ্ব মৃত্যুদণ্ড বিলোপ দিবস পালিত, মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান ক্ষেতলালে ৪২ পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা: নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে প্রস্তুতিমূলক সভা দীঘিনালায় ৭ বিজিবির উদ্যোগে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও জনসচেতনতামূলক সভা বাউফলে বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল ও পরিবারকে অবরুদ্ধের অভিযোগ! উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসবের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  – জহির উদ্দিন স্বপন

জনবল সংকট ও যন্ত্রপাতির অচলতায় সেবা ব্যাহত, দুর্ভোগে রোগীরা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬



দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জনবল সংকট ও যন্ত্রপাতির অচলতায় সেবা ব্যাহত, দুর্ভোগে রোগীরা

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর

চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের তীব্র সংকট, গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি অচল থাকা এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগীর চাপে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৫০০ শয্যার এই আঞ্চলিক চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন। এ ছাড়া বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসছেন প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ। অতিরিক্ত রোগীর স্থান সংস্থান না হওয়ায় অনেককে মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে রেখে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে ১ হাজার ১২০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে ৯৫৪ জন কর্মী কর্মরত রয়েছেন। শূন্য পদের সংখ্যা ১২৬টি। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা প্রথম শ্রেণির চিকিৎসকের পদে। ২১৮টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৩০ জন। অর্থাৎ চিকিৎসকের ৮৮টি পদই ফাঁকা, যা মোট পদের প্রায় ৪০ শতাংশ। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণির নার্সিংয়ের চারটি পদের সব কটিই শূন্য।

কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে মূলত ২৫০ শয্যার জনবল কাঠামো দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে ৫০০ শয্যার এই হাসপাতাল। অতিরিক্ত রোগীর চাপে খাবার ও ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায়ও হিমশিম খেতে হচ্ছে। বহির্বিভাগে সকাল ৮টা থেকে রোগী দেখার কথা থাকলেও এর অনেক আগেই টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন বয়স্ক, শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীরা।

হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পরীক্ষাসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে অচল। বিশেষ করে এমআরআই মেশিনটি প্রায় ১১ বছর ধরে বন্ধ। সিটি স্ক্যান মেশিনও বিকল। ফলে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে বাধ্য হয়ে বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। এতে বিপুল অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের।

কাদের নেওয়াজ (৭০) নামে বিরল থেকে আসা এক রোগীর স্বজন জানান, ভর্তির পর চিকিৎসকের দেওয়া ৮-১০টি পরীক্ষার মধ্যে রক্তের একটি বাদে বাকি সব পরীক্ষাই বেসরকারি ক্লিনিক থেকে করাতে হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে দুপুর ১২টার পরেই অনেক পরীক্ষার সেবা বন্ধ হয়ে যায়। এই সুযোগে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও প্যাথলজি প্রাঙ্গণে সক্রিয় দালাল চক্র কম খরচে পরীক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালের করিডোর ও শৌচাগারগুলোতে পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং দুর্গন্ধের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও সেবাগ্রহীতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, জনবল সংকটের কারণে কিছু সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটছে। অচল এমআরআই ও সিটি স্ক্যান মেশিন দুটিকে এরই মধ্যে বাতিল ঘোষণা করে নতুন যন্ত্রপাতির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত নতুন মেশিন পাওয়া যাবে। অন্যান্য যন্ত্রপাতি সচল রাখতে কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের সেবা সক্ষমতা বাড়াতে এবং বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে ১ হাজার শয্যার নতুন জনবল কাঠামোর (অর্গানোগ্রাম) প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews