শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
তিন দশকের অগ্নিপরীক্ষা ও রাজপথের সেনানী জলঢাকায় ময়নুল ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল রাজনৈতিক পথচলা এস.এম.রাব্বি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পর্যায়ে গুণীশিক্ষকদের কৃতী তালিকায়! চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার নাজমুস সাকিবের সুনামগঞ্জে বাণিজ্যে মেলা-২০২৬ এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন  আম ব্যবসায়িদের উপর হামলার জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী জলঢাকা য় পৌর হাটবাজারের ইজারায় পে- অর্ডার ও টাকা ছিনতাই, সংবাদ সম্মেলন পুনর্ভবার তীরে শুভ্র কাশবনে সেজেছে দিনাজপুর, ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা কালিহাতীতে রাবেয়া রহমত উল্লাহ বৃদ্ধাশ্রমের মাদকবিরোধী সমাবেশ খন্দকার আমিনুর রহমান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ফিরোজ আহামেদ নির্বাচিত

তিন দশকের অগ্নিপরীক্ষা ও রাজপথের সেনানী জলঢাকায় ময়নুল ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল রাজনৈতিক পথচলা

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬



তিন দশকের অগ্নিপরীক্ষা ও রাজপথের সেনানী জলঢাকায় ময়নুল ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল রাজনৈতিক পথচলা

 মোঃ নুরুজ্জামান, নীলফামারী
​রাজনীতি কেবল কোনো ক্ষণিকের অবস্থান, ক্ষমতার মোহ কিংবা পদ-পদবির মেকি মোড়ক নয়; রাজনীতি হলো আদর্শের অগ্নিপরীক্ষায় বারবার উত্তীর্ণ হওয়ার এক কঠিন ও নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে তেমনই এক আস্থার প্রতীক, দূরদর্শী সংগঠক ও আপসহীন লড়াকু মুখের নাম ময়নুল ইসলাম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দর্শনের প্রতি অবিচল আস্থা এবং সাবেক দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজপথের কণ্টকাকীর্ণ পথ পার করেছেন অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে।
​তৃণমূল থেকে উত্থান ও পদাক্রমের ইতিহাস
​ময়নুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবনের মূল ভিত্তি রাজপথের আন্দোলন আর তৃণমূলের ধূলিমলিন উঠোন। স্বৈরাচারী শাসন ও চরম প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি কখনো নীতিচ্যুত হননি।
​তৃণমূলের পদক্ষেপ প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে পথচলা শুরু। সাধারণ নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও আন্দোলনের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্বদান।
​পৌরসভা থেকে উপজেলা২০০৩ সাল থেকে আজ অবধি যিনি একাধারে জলঢাকা পৌর ও উপজেলা বিএনপির দায়িত্ব সামলে সংগঠনকে গড়ে তুলেছেন তিল তিল করে। তিনি জলঢাকা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেন। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার পর তাঁর কাঁধে আসে জলঢাকা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব।
​সংগঠন পুনর্গঠন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (সদ্য সাবেক) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের এক সুতোয় গেঁথে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক প্রাচীর গড়ে তোলেন।
​জেলা কমিটিতে অবস্থান দলের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম আনুগত্য, ত্যাগ এবং দক্ষ সাংগঠনিক ভূমিকার মূল্যায়নে তাঁকে নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক  অন্যতম সম্মানিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
​রাজপথের ত্যাগের ইতিহাস ও মানবিক নেতৃত্ব
​সংবাদের খবরের আড়ালে থেকে যায় অসংখ্য আত্মত্যাগ ও সহমর্মিতার না-বলা গল্প, যা কেবল তৃণমূল কর্মীরাই অনুভব করতে পারেন।
​জেল-জুলুম ও অনমনীয় হুংকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে সইতে হয়েছে জেল-জুলুম ও কারাবন্দী জীবন। কিন্তু কারান্তরালে থেকেও কিংবা রাজপথের তীব্র সংকটেও থমকে যায়নি তাঁর প্রতিবাদের হুংকার।
​দলের দুর্দিনে সাহসী অভিভাবকত্ব দলের সবচেয়ে কঠিন ও সংকটময় মুহূর্তগুলোতে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি। মামলা, হামলা ও গ্রেফতারের ভয় উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের পাশে ছায়াসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছেন এবং কেন্দ্র ঘোষিত প্রতিটি নির্দেশ বাস্তবায়নে সামনের সারি থেকে সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন।
​প্রতিকূলতায় অবিচল জলঢাকার রাজপথ যখন বিরোধী দলের কর্মসূচির জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, যখন মিছিলে শরিক হওয়া মানেই ছিল গ্রেফতার বা নির্যাতনের শঙ্কা—তখনো ময়নুল ইসলাম পিছপা হননি।
​নেতাকর্মীদের শেষ আশ্রয়স্থল গভীর রাতে নিজ পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা, থানার দোরগোড়ায় দৌড়ঝাঁপ করা কিংবা কারাবন্দী কর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ।
 নীলফামারী ও জলঢাকার রাজনীতিতে তৃণমূল কর্মীদের কাছে ‘ময়নুল ভাই’ কেবল একজন নেতাই নন, বরং যেকোনো আপদে-বিপদে ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল।
​অপরাজনীতি ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সোচ্চার দলীয় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছ রাজনীতির পক্ষে তিনি সবসময় সোচ্চার। অপকর্ম, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমর্থনে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য সহযোদ্ধাদের মধ্যে সুশাসন ও আদর্শের চর্চাকে ত্বরান্বিত করেছে।
​নতুন দিগন্তে ঐক্যবদ্ধ সাংগঠনিক অগ্রযাত্রা
​বর্তমানে নীলফামারী জেলা বিএনপির অভিভাবক, বিশিষ্ট সংগঠক বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার এসোসিয়েশনের (এ্যাব) সভাপতি শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ছায়াতলে নীলফামারী জেলা বিএনপি এক নতুন রাজনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য লাভ করেছে। সেই ধারায় ময়নুল ইসলাম জেলা আহ্বায়ক কমিটির সাবেক  সদস্য হিসেবে জলঢাকা বিএনপিকে আরও শৃঙ্খলিত, আধুনিক ও শক্তিশালী রূপে গড়ে তুলতে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।
​তৃণমূলের যেসব ত্যাগী কর্মী দীর্ঘ রাজপথের লড়াইয়ে জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, তাঁদের উপযুক্ত মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য। দেশনায়ক তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে তিনি মাঠে-ময়ধানে, গ্রামীণ জনপদের মেঠো পথে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে।
 সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। দীর্ঘ তিন দশকের এই পথচলা তাঁকে বানিয়েছে সাধারণ মানুষের এক সত্যিকারের জননেতা। রাজপথের এই বীর সেনানী আগামী দিনে জলঢাকা বিএনপিকে আরও ঐক্যবদ্ধ করে বিজয়ের দ্বারে পৌঁছে দেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় জাতীয়তাবাদী জনতার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews