শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বাউফলে মরা-অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ,কেজি ৭৫০ টাকা খোকসায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার দুই বছরের অধিক সময় পর চাঞ্চল্যকর রাহুল হত্যাসহ ঘটনার রহস্য উদঘাটন পিবিআই , দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গঠনের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রফিকুল আল আমিন জনপ্রিয়তার শীর্ষে গোবিন্দগঞ্জে সীমানা প্রাচীর বিরোধে প্রতিপক্ষের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু  বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ স্বপদে বহাল পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিএম নাঈম মাহমুদ অপপ্রচার ও ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি কুমিল্লায় ‘খ’ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ ওসি মেঘনা থানার শহীদুল ইসলাম ​সমাজে বিষফোঁড়া ‘কিশোর গ্যাং : স্পট, অপরাধের ধরন, আইনি পদক্ষেপ ও উত্তরণের উপায়!

দুই বছরের অধিক সময় পর চাঞ্চল্যকর রাহুল হত্যাসহ ঘটনার রহস্য উদঘাটন পিবিআই ,

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬



দুই বছরের অধিক সময় পর চাঞ্চল্যকর রাহুল হত্যাসহ ঘটনার রহস্য উদঘাটন পিবিআই ,

আর কে রুবেল

দুই বছরের অধিক সময় পর চাঞ্চল্যকর রাহুল হত্যাসহ ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন পিবিআই ,২০২৪ সালে সংঘটিত নবাবগঞ্জ থানার চাঞ্চল্যকর অটোরিক্সা চালক রাহুল খুনসহ ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ জড়িত ৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা। গ্রেফতারকৃত আসামীদের মধ্যে মোঃ সবুজ মিয়া (২৮) এবং মোঃ লালন মোল্লা (৪৩) বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধাথায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে।

অটোনিস্থা চালক ডিসিদ্ধ মোঃ রাহুল (১৯), পিতা-মোঃ আঃ রহমান, সাং-চক সিংহড়া, পোঃ শোল্লা থানা-নবাবগঞ্জ, জেলা-ঢাকা তার ভাড়াকৃ অর্থ্যারিক্সাটি নবাবগঞ্জ থানাধীন চক সিংহড়া এলাকায় জনৈক ওমর ফারুক এর ওয়ার্কশপে রাখত এবং সেখানে রাতে ঘুমাত। গত ০৬/০২/২০১৪ তারিখ রাত ২১.০০ ঘটিকায় রাহুল তার নিজ বাসা থেকে রাতের খাবার খেয়ে ওয়ার্কশপে ঘুমানোর জন্য যায়। ০৭/০২/২০২৪ তারিখ বাড়িতে না যাওয়্যায় রাজুলের বাবা উক্ত ওয়ার্কশপে খুঁজতে গিয়ে সেখানে রাহুলকে পাননি। তারপর থেকে রাহুলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তার অটোরিক্সাটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলনা। ০৯/০২/২০২৪ তারিখ সকাল অনুমান ০৯.০০ ঘটিকায় উক্ত ওয়ার্কশপের দক্ষিণ-পূর্ব কোনে জনৈক লিয়াকত এর ভুট্টা খাদের জমির আইলের ঝোপ থেকে রাহুল এর অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা মোঃ আঃ রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা নং-২১, তারিখ-০৯/০২/২০২৪, ধারা-৩৯৪/৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। মামলাটি থানা পুলিশ কর্তৃক তদন্তাধীন অবস্থায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর নির্দেশে পিবিআই এর নিকট হস্তান্তরিত হয় এবং এসআই মোঃ আব্দুর রহিমকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

গিরিভাই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদ, পিপিএম এর তত্ত্বাবধানে পিবিআই ঢাকা জেলা টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী মোঃ সমেজ (৩২), পিতা-মৃত আঃ জলিল, মাতা- মৃত সায়েরা, সাং- পাতিলকাপ থানা-নবাবগঞ্জ, জেলা-ঢাকাকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে। তার দেয়া তথ্যমতে। অপর আসামী মোঃ সবুজ মিয়া (২৮), পিতা- মৃত শেখ ময়ফল, মাতা-মৃত রোকেয়া, সাং-পাতিলকাপ, থানা-নবাবগঞ্জ, জেলা-ঢাকাকে গ্রেফতার করা হয়। উক্ত আসামী ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। আসামী সবুজের প্রদত্ত জবানবন্দীর ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত আসামী খবির ওরফে গোবিন্দ(২৮), পিতা-মৃত মফজেল খান, মাতা-কল্পনা বেগম, সাং- সিংহড়া, থানা-নবাবগঞ্জ, জেলা-ঢাকা, আসামী মোঃ হাবিব ওরফে সজল (৩৬), পিতা- মৃত মজিদ মাদবর, মাতা-রেখা বেগম, সাং- চরগোবিন্দপুর, থানা-মাদারীপুর সদর, জেলা-মাদারীপুর এবং আসামী মোঃ লালন মোল্লা (৪৩), পিতা- জালাল মোল্লা, মাতা-লাইলী, সড়-পাতিলনাগ, খানা-নবাবগঞ্জ, জেলা-চাকাকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ লালন মোল্লা বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী প্রদান করে।

পিবিআই এর তদন্ত এবং আসামীদের প্রসত্ত ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় প্রাপ্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী পর্যালোচনায় জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামীরা ডিসিজয় রাহুল এর পূর্ব পরিচিত। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ লালন মোল্লা ইয়াবা ব্যবসা করে। ভিকটিম রাহুল এবং অন্যান্য আসামীরা লালনের কাছ থেকে ইয়াবা কিনত এবং তারা একসাথে ইয়াবা সেবন করত। লালন সবুজের কাছে জানতে পারে যে, তার ইয়াবা বিক্রির তথ্য বাতুল বাইরে বিভিন্ন জায়গায় জানিয়ে দিবে বলে সবুজের কাছে বলেছে। তথ্য ফাঁস করে দেয়ার কথা জানতে পেরে আসামীরা রাহুলকে মেরে তার অটোরিক্সা ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ০৬/০২/২৪ তারিখ আনুমানিক রাত ১০ টায় লালন সবুজকে দিয়ে রাহুলকে তার অটোরিক্সাসহ নবাবগঞ্জ এলাকার জনৈক তমসেল মাদবরের খোলা মাঠে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে লালন, সজল, সমেজ ও গোবিন্দ পূর্বে থেকেই উপস্থিত ছিল। তারা প্রথমে ডিসিজও বাহুলকে ইয়াবা খাওয়ায়। এক পর্যায়ে সুযোগ বুখে লালন লোহার এঙ্গেল দিয়ে রাহুলের

মাথার পিছনে বাড়ি দিলে মাথা ফেটে রক্ত বের হয়। রাহুলের কানে ও মুখে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে। তারা রাহুলের অটোরিক্সার ব্যাটারী দিয়ে নাজলের মুখে আঘাত করে এবং শ্বাসরোধ করে রাহুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে। রাহুলের মৃতদেহ অটোরিক্সায় বসিয়ে তারা আসামী সজলের গরুমা খামারে নিয়ে যায়। আসামীরা সেখানে মৃতদেহ দুইদিন রাখে এবং ০৯/০২/২৪ তারিখে রাত আনুমানিক ১.০০ ঘটিকার পরে মৃতদেহ ওমর ফারুকের ওয়ার্কশপের পাশে ফেলে রাখে যেখান থেকে পরবর্তীতে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ডিসিজড রাহুলের অটোরিক্সাটি গ্রেফতারকৃত আসামীরা বিক্রি করে দেয় এবং বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।

এ বিষয়ে দিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জনাব এম,এন, মোর্শেদ, পিপিএম বলেন, “চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার মামলাটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স হতে তদন্তভার প্রাপ্তির পর হতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। নিরলস তদন্তের মাধ্যমে দীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশি সময়ের পুরনো মামলাটির ঘটনার সাথে জড়িত সকল আসামীদের গ্রেফতার করতে আমরা সক্ষম হই।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews