বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
​সমাজে বিষফোঁড়া ‘কিশোর গ্যাং : স্পট, অপরাধের ধরন, আইনি পদক্ষেপ ও উত্তরণের উপায়! গাজীপুরে বন ও পরিবেশ সুরক্ষায় বন বিভাগ’প্রতিষ্ঠাসহ ৫ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন দ্বীনি চর্চা ও আলেমদের কল্যাণে অভূতপূর্ব অগ্রগতি-মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ বাল্যবিয়েতে ৩২ সহপাঠী! প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পণ্ড! সিলেটে এ বছর ৬৩৬ স্থানে দুর্গাপূজা হচ্ছে গাছায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের প্রস্তুতি, রামদাসহ যুবক আটক চাটখিলে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় অটোরিকশা চালকের মৃত্যু বর্ধিত পরিসরে দুর্গাপূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তুলার  আমদানিনির্ভরতা কমাতে কৃষি ও শিল্পের সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন মাঠের অভাব ও প্রযুক্তির প্রভাব: দিনে দিনে আড়ালে চলে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হাডুডু

গাজীপুরে বন ও পরিবেশ সুরক্ষায় বন বিভাগ’প্রতিষ্ঠাসহ ৫ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬



গাজীপুরে বন ও পরিবেশ সুরক্ষায় বন বিভাগ’প্রতিষ্ঠাসহ ৫ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

আলমগীর কবীর,গাজীপুর থেকে: 
গাজীপুরে বন ও পরিবেশ সুরক্ষা, বনভূমি দখলমুক্তকরণ, বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং বন বিভাগের সেবাসমূহ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার দাবিতে গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলন (গাপা) ও জনস্বার্থ উন্নয়ন ট্রাস্ট (PID Trust)-এর যৌথ উদ্যোগে গাজীপুরে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার ৬ অক্টোম্বর ২০২৬ইং সকাল ১১টায় মহানগরের জয়দেবপুরস্থ শহীদ নিয়ামত সড়কে অবস্থিত শায়লা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বন ও পরিবেশ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা বলেন,গাজীপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল জেলাজুড়ে বনাঞ্চলসমৃদ্ধ । এ জেলার বনভূমি শুধু স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নয়, বরং জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু, জনস্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক পরিবেশ সুরক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বনভূমি জবরদখল, অবৈধ স্থাপনা, বন উজাড় এবং বিভিন্ন ধরনের বন অপরাধের কারণে গাজীপুরের বন ও পরিবেশ ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ছে।

শুধু আইন ও নীতিমালা থাকলেই বন রক্ষা সম্ভব নয়; প্রয়োজন কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, দ্রুত আইন প্রয়োগ এবং জনগণের সহজে সেবা পাওয়ার সুযোগ।

গাজীপুর বন বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবি
আয়োজকরা বলেন, বর্তমানে “ঢাকা বন বিভাগ” ও “বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ঢাকা বিভাগ” এর নাম ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদ্বয়ের কার্যালয় রাজধানী ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত। অথচ এই দুই বিভাগের সম্পূর্ণ অধিক্ষেত্র গাজীপুর জেলার মধ্যে। ফলে গাজীপুরের বন ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা, আবেদন, যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় কাজে সেবা প্রত্যাশীদের ঢাকায় গিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হয়।

এতে সাধারণ জনগণ, বনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা, ভূমির মালিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সেবা প্রত্যাশীদের সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় জনভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

আয়োজকরা বলেন, ঢাকা বন বিভাগের ভবিষ্যৎ কাঠামো কী হবে ?এটি তাদের দাবির বিষয় নয়। তাদের মূল দাবি হলো,গাজীপুর জেলার বনাঞ্চল ও বন প্রশাসনের জন্য পৃথক “গাজীপুর বন বিভাগ” প্রতিষ্ঠা করা।

গাজীপুরে পৃথক বন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হলে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক সেবা গাজীপুর থেকেই পাওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি বন সংরক্ষণ, বনভূমি দখল প্রতিরোধ ও উদ্ধার, বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বন বিভাগের সমন্বয় আরও কার্যকর হবে।

৫ দফা দাবি সমূহ:
১. সেবা সহজীকরণ এবং বন ও পরিবেশ সুরক্ষায় “গাজীপুর বন বিভাগ” অনুমোদনক্রমে প্রস্তাবিত কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। গাজীপুরের বন প্রশাসনকে গাজীপুরকেন্দ্রিক করে বিভাগীয় পর্যায়ের সেবা স্থানীয় জনগণের জন্য সহজলভ্য করতে হবে।

২. যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করে বন ক্যাডার কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। বন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে মাঠপর্যায়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

৩. জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি উদ্ধারকৃত বনভূমি পুনরায় দখল রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. হয়রানিমূলক বন মামলা যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রকৃত বন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. বন অপরাধে জড়িত সরকারি-বেসরকারি সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বন অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, প্রভাব কিংবা অবস্থান বিবেচনা না করে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

আয়োজকরা বলেন,বন রক্ষা শুধু বন বিভাগের একক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত দায়িত্ব। বনভূমি রক্ষা করতে হলে বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় একান্ত প্রয়োজন।

গাজীপুরের বনাঞ্চলকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা ও বন অপরাধের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বন বিভাগের প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

আয়োজকরা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং বন সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার স্বার্থে গাজীপুরে পৃথক বন বিভাগ প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আয়োজকরা উপরোক্ত দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান এবং গাজীপুরের বন ও পরিবেশ রক্ষায় গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন,মো.মোছাদ্দিকুর রহমান, সভাপতি, গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলন (গাপা)।মো. মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলন (গাপা) ও ম্যানেজিং ট্রাস্টি, জনস্বার্থ উন্নয়ন ট্রাস্ট (পিআইডি ট্রাস্ট),প্রধান উপদেষ্টা ফেডরিক মুকুল বিশ্বাস, গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলন (গাপা)। নির্বাহীসহ-সভাপতি এনামুল হক, গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলন (গাপা)। মো: ইসমাইল মোল্যা, সহ সভাপতি,  গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলন (গাপা)। রফিকুল ইসলাম রুবেল, দপ্তর সম্পাদক, গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলন (গাপা)।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews