
আশুলিয়ায় ট্রিপল মার্ডার এর ঘটনায় ১ জন গ্রেফতার!
আর কে রুবেল
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় তালাবদ্ধ কক্ষে নবজাতকসহ তিন জনের মৃতদেহ প্রাপ্তির ঘটনায় বিগত ০৬/০৯/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে হত্যাকান্ডে জড়িত মনিরুজ্জামান (৫) হসয় (৪৪) কে অ্যগুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা। গ্রেফতারকৃত বাক্তির কাছ থেকে ভিকটিমের পার্স, সিমসহ মোবাইল ফোন এবং পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বিগত ০৫/০৯/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন জামগড়ার জনৈক হযরত আলীর বাড়ির ২য় তলার ৫৬ নং কক্ষ হতে পঁচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় লোকজন আশুলিয়া থানায় সংবাদ প্রদান করেন। সংবাদ পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত তালাবদ্ধ কক্ষের দরজা খুলে শয়নকক্ষের ভিতরে প্রবেশ করে অর্থ গলিত পুরুষ, অর্ধ গলিত মহিলা ও অর্থ গলিত নবজাতক শিশুর লাশ দেখতে পান। মৃতদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে আলমগীর কবির(৪৫), পিতা- অনুমদ্দিন, সাং- নিশা কাজলদীঘি, নাজমা মাতুন (৩৯), স্বামী-আলমগীর কবির, সাং- বড় মাগুরা, উভয় থানা-নবাবগঞ্জ, জেলা- দিনাজপুর এবং সদা ভূমিয়া একটি নবজাতক শিশুর মরদেহ। পরবর্তীতে লাশগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে আশুলিয়া থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরন করে। এ ঘটনায় ভিকটিম নাজমার বড় বোন মোসাঃ শাপলা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা নং-৩০, তারিখ-০৬/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করে। ঘটনার পর থেকেই পিবিআই ঢাকা জেলা অত্র ঘটনার ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। পিবিআই এর সিডিউলভুক্ত মামলা হওয়ায় পিবিআই ঢাকা জেলা ০৮/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিঃ) আনিসুর রহমান মামলাটি তদন্ত করছেন।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদ, দিদিএম এর তত্ত্বাবধানে পিবিআই ঢাকা জেলার একটি চৌকস টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়া থানার নরসিংহপুর এলাকা থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মনিরুজ্জামান ও হৃদয় (৪৪), পিতা-আঃ জব্বার মাতুকবর, মাতা-জাহানারা বেগম, সাং-দাম দরদী, ডাকঘর-চাঁদহাঠ, থানা-নগরকান্দা, জেলা-ফরিদপুর এ/পি সাং-তজু ভিলা, শারমিন গার্মেন্টস ৩নং গেইট, নরসিংহপুর, থানা-আশুলিয়া, জেলা-ঢাকাকে গ্রেফতার করে। পিবিআই এর জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মনিরুজ্জামান ও হৃদয় (৪৪) ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ও দেখানো মতে আসামীর ভাড়া বাসা থেকে ভিকটিম নাজমার ব্যবহৃত এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র এবং তার ব্যবহৃত হ্যান্ড পার্স উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আসামি হৃদয় বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআই এর তদন্তে এবং আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায়, আসামি মোঃ মনিরুজ্জামান হৃদয়ের সঙ্গে ভিকটিম নাজমার দীর্ঘদিনের প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক চলমান ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে নাজমার স্বামী ভিকটিম আলমগীরের সঙ্গে হৃদয়ের বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর আসামি হৃদয়ের বাসায় গিয়ে তাকে তাদের বাসায় নিয়ে আসে। যেখানে পূর্বের সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আলমগীর মনিরুজ্জামান এর সঙ্গে ধাক্কাধাঝি করে এবং তাকে মারধর করতে থাকে। এ সময় নাজমা মনিরুজ্জামানকে কাঁচু দিয়ে আঘাত করে। তখন মনিরজ্জামান তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে এবং চুষি দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে হৃদয় নাজামার পেটে লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। এতে নাজনার পেটে আঘাত লাগে এবং নাজমা ও তার গর্ভের সন্তান মারা যায়। পরবর্তীতে আলমগীর চুক্তি ও পাইপ দিয়ে মনিরুজ্জামানকে আঘাত করলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং আলমগীরকে আসামী মনিরুজ্জামান মাথায় ও শরীরে ৫/৭ টি ঘুষি দেয়। একপর্যায়ে আলমগীর অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়লে মনিরুজ্জামান তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যাকাণ্ডের পর আসামি মনিরুজ্জামান মরদেহগুলো খাটের ওপর শুইয়ে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় সে ভিকটিম নাজমার ব্যবহৃত এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র এবং তার ব্যবহৃত হ্যান্ড পার্স নিয়ে চলে যায়।
পিবিআই ঢাকা জেলার ইনচার্জ এম, এন, মোর্শেদ, পিপিএম জানান যে, আমরা ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির পর থেকেই ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখি। অত্র ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ো দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।