
সোলাইমান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফের এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাটহাজারী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাচন আলী চৌধুরী বাড়ি সড়কের হাবিবা ভিলার নিচতলার একটি ভাড়া বাসা থেকে সাদিয়া আক্তার (১৯) নামে ওই নববধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সাদিয়া আক্তার উপজেলার মেখল ইউনিয়নের উত্তর মেখল এলাকার কান্তর আলী ফকির বাড়ির মো. শফির মেয়ে। কয়েক মাস আগে গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফয়জুল ইসলামের ছেলে প্রবাসী মো. ওয়াহিদুল আলম প্রকাশ আসিফের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা পৌরসভা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার দুপুর থেকে ওই বাসার দরজা বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে একপর্যায়ে জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে তাকালে সাদিয়াকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।
পরে খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও সাদিয়ার সঙ্গে তাদের কথা হয়েছিল। ওই সময় তিনি কিছুটা কষ্টের কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে শিগগিরই দেখা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই তার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পান স্বজনরা।
সাদিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে।
হাটহাজারী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি